খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৫
বাংলা সঙ্গীত জগতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, বীর মুক্তিযোদ্ধা, কিংবদন্তি সুরকার ও সঙ্গীত পরিচালক সুজেয় শ্যাম ছিলেন আমাদের গৌরবের প্রতীক—একজন সত্যিকার শব্দসৈনিক।
১৯৪৬ সালের ১৪ মার্চ, সিলেটে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। শৈশব থেকেই সঙ্গীতের প্রতি গভীর অনুরাগ তাঁকে নিয়ে যায় সুরের জগতে। ১৯৬৯ সালে সঙ্গীত পরিচালক রাজা হোসেনের সঙ্গে মিলে ‘রাজা-শ্যাম’ নামে জুটি গড়ে চলচ্চিত্রে সঙ্গীত পরিচালনার যাত্রা শুরু করেন।
সত্তর ও আশির দশকে তাঁরা একত্রে ‘সূর্যগ্রহণ’, ‘সূর্য সংগ্রাম’, ‘ভুল যখন ভাঙল’-সহ প্রায় পঁচিশটি চলচ্চিত্রে সঙ্গীত পরিচালনা করেন।
‘সূর্যগ্রহণ’ চলচ্চিত্রের সঙ্গীত পরিচালনার জন্য তিনি অর্জন করেন বাচসাস চলচ্চিত্র পুরস্কার।
১৯৮৬ সালে ‘বলবান’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তিনি একক সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন।
পরে একুশ শতকের শুরুতে ‘হাছন রাজা’ চলচ্চিত্রে সঙ্গীত পরিচালনা করে অর্জন করেন তাঁর প্রথম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। চলচ্চিত্রকার চাষী নজরুল ইসলামের অনুরোধে তিনি এ চলচ্চিত্রের একটি গানে কণ্ঠও দেন।
মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় সুজেয় শ্যাম ছিলেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কণ্ঠযোদ্ধা, যেখানে তাঁর সুরে সুরে অনুপ্রেরণা পেয়েছে সমগ্র জাতি। ২০০৬ সালে তিনি যুদ্ধকালীন সেই অমর ৪৬টি গানের সংকলন নিয়ে প্রকাশ করেন ‘স্বাধীন বাংলা বেতারের গান’ অ্যালবাম, যা হয়ে ওঠে এক অনন্য ঐতিহাসিক দলিল।
২০১৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র ‘একাত্তরের ক্ষুদিরাম’ ও ‘একাত্তরের মা জননী’-এর সঙ্গীত পরিচালনা করে তিনি সমালোচক ও দর্শকপ্রশংসা অর্জন করেন।
২০২১ সালে তিনি আবারও জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে শ্রেষ্ঠ সুরকার ও সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে স্বীকৃতি পান।
কর্মের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি লাভ করেছেন একুশে পদক ও শিল্পকলা পদক—বাংলা সঙ্গীতের শ্রেষ্ঠ সম্মানগুলোর অন্যতম।
১৮ অক্টোবর ২০২৪-এর প্রভাতে সুজেয় শ্যাম পাড়ি জমান অনন্তলোকে। তাঁর সুরে, তাঁর গানে, তাঁর দেশপ্রেমে চিরকাল বেঁচে থাকবেন এই শব্দসৈনিক।
শ্রদ্ধাঞ্জলি।
খবরওয়ালা/এমএজেড