পশ্চিম আফ্রিকার দেশ বুরকিনা ফাসোয় ইসলামি শরিয়াহ আইন চালুর বিষয়ে তৈরি হওয়া সব ধরনের জল্পনা-কল্পনা ও গুঞ্জনকে সম্পূর্ণভাবে নাকচ করে দিয়েছেন দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম ত্রাওরে। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, বুরকিনা ফাসো একটি সম্পূর্ণ সার্বভৌম ও ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র হিসেবেই বজায় থাকবে। সম্প্রতি এক জনসমক্ষে দেওয়া বিবৃতিতে তিনি দেশের এই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। ত্রাওরে জোর দিয়ে বলেন, কোনো ধর্মই রাষ্ট্রের চেয়ে বড় হতে পারে না এবং বুরকিনা ফাসো কখনই শরিয়াহ আইন গ্রহণ করবে না।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশটির একটি বড় জনগোষ্ঠী মুসলিম হওয়ায় সেখানে শরিয়াহ আইন প্রবর্তন হতে পারে বলে যে আলোচনা চলছিল, সেটির যুক্তিও তিনি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি মনে করেন, মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠতা কোনোভাবেই একটি দেশের ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্রের পরিবর্তনের ভিত্তি হতে পারে না।
জনসাধারণের উদ্দেশ্যে দেওয়া ওই বক্তব্যে নিজের ব্যক্তিগত ও রাষ্ট্রীয় ভাবনার কথা তুলে ধরেন প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম ত্রাওরে। তিনি বলেন, “আমি নিজে একজন মুসলিম এবং আমার নিজস্ব ধর্মীয় বিশ্বাস ও অনুশাসন স্বাধীনভাবে পালন করার পূর্ণ অধিকার আমার রয়েছে। ঠিক একইভাবে, বুরকিনা ফাসোয় বসবাসরত অন্য সব ধর্মের মানুষেরও যার যার নিজস্ব বিশ্বাস ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান স্বাধীনভাবে পালন করার শতভাগ অধিকার রয়েছে। আমি আজ অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় এটি জানিয়ে দিতে চাই যে, এই দেশে কখনই শরিয়াহ আইন কার্যকর করা হবে না।”
তার এই ঘোষণা এমন একটি সময়ে এলো যখন দেশটি দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী ও উগ্রপন্থীদের সহিংসতার বিরুদ্ধে লড়াই করছে। নিরাপত্তা সংকট ও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার এই আবহে দেশের ধর্মনিরপেক্ষ কাঠামোর সুরক্ষা দেওয়া অত্যন্ত জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ত্রাওরের এই অবস্থান দেশের সব ধর্মের নাগরিকদের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সরকার সব নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করে একটি অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র গঠনে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।



