সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলায় বিপুল পরিমাণ অবৈধভাবে মজুদ করা ডিজেল জব্দ করেছে প্রশাসন। একই সঙ্গে এক ব্যবসায়ীকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার শেরনগর বাজার এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়। স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে পরিচালিত এ অভিযানে মোট ১৭৪৪ লিটার ডিজেল উদ্ধার করা হয়।
অভিযান সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে শেরনগর বাজার এলাকার একটি দোকানে অনুমোদনহীনভাবে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল মজুদ করে রাখা হচ্ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলা প্রশাসন সেখানে অভিযান চালায়। অভিযানের সময় দোকান থেকে ১৭৪৪ লিটার ডিজেল উদ্ধার করা হয়, যা বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই সংরক্ষণ করা হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত করা হয়।
পরে উদ্ধারকৃত ডিজেল সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা হয় এবং বিক্রয়লব্ধ অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।
অভিযান শেষে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী রবিউল ইসলামকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুদ ও বাজারে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অভিযোগে তাকে তিন দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে কারাগারে পাঠানো হয়।
বেলকুচি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইমাম জাফর জানান, জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুদ বাজার ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করে এবং সাধারণ ভোক্তাদের জন্য সংকট সৃষ্টি করতে পারে। তাই নিয়মিত নজরদারির অংশ হিসেবে এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরিন জাহান ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। তিনি বলেন, সরকারি অনুমোদন ছাড়া জ্বালানি তেল মজুদ করা সম্পূর্ণভাবে আইনবিরোধী। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতেও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত থাকবে।
স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার পাশাপাশি অবৈধ মজুদ ও কালোবাজারি প্রতিরোধে নিয়মিত অভিযান চালানো হবে।
নিচে অভিযানের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো—
| বিষয় |
তথ্য |
| অভিযানের স্থান |
শেরনগর বাজার, বেলকুচি |
| জব্দকৃত জ্বালানি |
ডিজেল |
| পরিমাণ |
১৭৪৪ লিটার |
| অভিযানের সময় |
মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল (দুপুর) |
| অভিযুক্ত ব্যক্তি |
রবিউল ইসলাম |
| শাস্তি |
৩ দিনের কারাদণ্ড |
| দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা |
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরিন জাহান |
| আইনশৃঙ্খলা বাহিনী |
বেলকুচি থানা পুলিশ |
এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এ ধরনের অভিযান বাজারে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে এবং অবৈধ মজুদদারদের নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। প্রশাসনও জানিয়েছে, জ্বালানি তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে নজরদারি আরও জোরদার করা হবে।