খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে ধর্মীয় পোশাককে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে নির্বাচনী কারচুপির আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন এই উদ্বেগের কথা জানান। তিনি অভিযোগ করেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে বিপুল পরিমাণ বোরকা ও নেকাব তৈরির তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, যা মূলত নির্বাচনে ছদ্মবেশে জাল ভোট দেওয়ার উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হতে পারে।
মাহদী আমিন তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, বিএনপি একটি ইসলামী মূল্যবোধসম্পন্ন রাজনৈতিক দল হিসেবে নারীর আব্রু ও পর্দার প্রতি সর্বদা সর্বোচ্চ শ্রদ্ধাশীল। তবে পবিত্র এই ধর্মীয় পোশাককে যদি কোনো স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী নির্বাচনী জালিয়াতির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে, তবে তা অত্যন্ত দুঃখজনক ও অপরাধমূলক। তিনি বলেন, “আমরা বিভিন্ন সূত্র থেকে জানতে পেরেছি যে, নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে একটি বিশেষ উদ্দেশ্যে প্রচুর বোরকা ও নেকাব তৈরি করা হচ্ছে। ইসলামী পোশাককে অপব্যবহার করে কেউ যদি মিথ্যা পরিচয়ে ভোট দেওয়ার চেষ্টা করে, তবে সাধারণ ভোটার ও পোলিং এজেন্টদের তা সাহসের সাথে প্রতিরোধ করতে হবে।”
| প্রস্তাবিত পদক্ষেপ | বাস্তবায়নের পদ্ধতি ও গুরুত্ব |
| নারী কর্মকর্তার উপস্থিতি | প্রতিটি কেন্দ্রে পর্যাপ্ত নারী প্রিসাইডিং ও সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার নিশ্চিত করা। |
| পরিচয় যাচাই (Face ID) | হজ বা ওমরাহ যাত্রীদের মতো প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে মুখমণ্ডল অনাবৃত করে পরিচয় শনাক্ত করা। |
| নারী এজেন্টদের ভূমিকা | সন্দেহজনক ক্ষেত্রে কেবল নারী পোলিং এজেন্টের মাধ্যমে পর্দা রক্ষা করে পরিচয় নিশ্চিত করা। |
| এনআইডি যাচাই | জাতীয় পরিচয়পত্রের ছবির সাথে ভোটারের বর্তমান চেহারার মিল দেখা। |
সংবাদ সম্মেলনে মাহদী আমিন সৈয়দপুর বিমানবন্দরে নগদ টাকাসহ ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াত আমির আটক হওয়ার ঘটনাটি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “এই ধরনের ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন হিসেবে দেখার কোনো সুযোগ নেই। এটি একটি সুপরিকল্পিত অপতৎপরতার অংশ।” তিনি সব গণতন্ত্রকামী রাজনৈতিক দলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সহিংসতা পরিহার করে একটি শান্তিপূর্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ নির্বাচনের পরিবেশ বজায় রাখা এখন জাতীয় কর্তব্য।
বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান সমাজে নারীর অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় অঙ্গীকারবদ্ধ। তিনি কোনো বিশেষ গোষ্ঠী বা স্বার্থান্বেষী মহলকে ধর্মীয় পোশাকের অপব্যবহার করে নির্বাচনের স্বচ্ছতা নষ্ট করতে দেবেন না। নির্বাচনী উৎসবকে কলঙ্কিত করার যেকোনো প্রচেষ্টাকে কঠোর হাতে দমনের জন্য তিনি প্রশাসনের প্রতিও দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
আগামীকাল অনুষ্ঠেয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মাহদী আমিন দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আগামীকাল সকালে আপনারা যত দ্রুত সম্ভব ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হোন। এই নির্বাচন বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের ভাগ্য নির্ধারণের লড়াই। দেশব্যাপী বিএনপির যে অপ্রতিরোধ্য জনপ্রিয়তার জোয়ার তৈরি হয়েছে, তাতে শামিল হয়ে গণতন্ত্র রক্ষার এই মিছিলে অংশ নিন।” তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে জালিয়াতি ও কারচুপির সব পথ রুদ্ধ হয়ে যাবে এবং শেষ পর্যন্ত গণতন্ত্রেরই জয় হবে।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তারা ভোটারদের নির্ভয়ে কেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, প্রতিটি কেন্দ্রে বিএনপির নিবেদিতপ্রাণ পোলিং এজেন্টরা সজাগ থাকবেন।