খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 21শে পৌষ ১৪৩২ | ৪ই জানুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলার কনেশ্বর এলাকায় ব্যবসায়ী খোকন চন্দ্র দাস হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার হওয়া তিন আসামি ঘটনার সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন বলে দাবি করেছে র্যাব। রোববার সন্ধ্যায় র্যাব-৮–এর মাদারীপুর ক্যাম্পে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান বাহিনীটির অধিনায়ক কমান্ডার শাহাদাত হোসেন।
র্যাব জানায়, তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে শনিবার দিবাগত রাত আনুমানিক একটার দিকে কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর এলাকা থেকে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলার কনেশ্বর এলাকার সোহাগ খান (২৮), রাব্বি মোল্যা (২৪) ও পলাশ সরদার (২৫)। পরে তাঁদের রোববার সন্ধ্যায় মাদারীপুরে র্যাব-৮ ক্যাম্পে আনা হয়।
প্রেস ব্রিফিংয়ে র্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার তিনজনই খোকন চন্দ্র দাসকে হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তাঁদের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, গত ৩১ ডিসেম্বর রাত প্রায় ৯টার দিকে খোকন চন্দ্র দাস ব্যবসার টাকা একটি ব্যাগে নিয়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে বাড়ি ফিরছিলেন। তিলই ব্যাপারী বাড়ি মসজিদের কাছে অটোরিকশা থেকে নামার পর বাড়ির দিকে হাঁটতে শুরু করলে আগে থেকেই ওত পেতে থাকা আসামিরা তাঁকে ঘিরে ধরে।
র্যাবের দাবি অনুযায়ী, দেশীয় অস্ত্র ও ধারালো চাকু দিয়ে ভয় দেখিয়ে খোকনের কাছ থেকে টাকার ব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এরপর তাঁকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে গুরুতর জখম করা হয়। একপর্যায়ে খোকন চন্দ্র দাস আসামিদের চিনে ফেলায় নিজেদের পরিচয় গোপন ও হত্যার উদ্দেশ্যে তাঁর শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
ঘটনার পর স্থানীয়রা গুরুতর দগ্ধ ও আহত অবস্থায় খোকন চন্দ্র দাসকে উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাঁকে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। দীর্ঘ চিকিৎসার পর শনিবার সকালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
এ ঘটনায় প্রথমে ডামুড্যা থানায় দস্যুতা ও হত্যাচেষ্টার মামলা দায়ের করা হয়। নিহতের বাবা পরেশচন্দ্র দাস বৃহস্পতিবার রাতে মামলাটি করেন। পরবর্তীতে খোকন চন্দ্রের মৃত্যু হলে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হয়। র্যাব জানায়, ঘটনার পরপরই আসামিরা আত্মগোপনে চলে গেলে ছায়া তদন্ত শুরু করা হয় এবং র্যাব-১৪–এর সহযোগিতায় তাঁদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়।
মারা যাওয়ার আগে খোকন চন্দ্র দাস হামলাকারী হিসেবে সোহাগ খান ও রাব্বি মোল্যার নাম বলে যান। পুলিশ তদন্তে পলাশ সরদারের সম্পৃক্ততার তথ্য পায়। বর্তমানে তিনজনই মামলার এজাহারভুক্ত আসামি।
| নাম | বয়স | ঠিকানা | অভিযোগ |
|---|---|---|---|
| সোহাগ খান | ২৮ | কনেশ্বর, ডামুড্যা | দস্যুতা ও হত্যা |
| রাব্বি মোল্যা | ২৪ | কনেশ্বর, ডামুড্যা | দস্যুতা ও হত্যা |
| পলাশ সরদার | ২৫ | কনেশ্বর, ডামুড্যা | দস্যুতা ও হত্যা |
এই নির্মম হত্যাকাণ্ড এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য কেউ থাকলে তাকেও আইনের আওতায় আনা হবে।