খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারি ২০২৬
রাজশাহীতে একটি সাধারণ প্রাইভেট কার তল্লাশিকালে উদ্ধার হওয়া বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থের উৎস নিয়ে দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) এক নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গত বছরের মার্চ মাসে নাটোর এলাকায় একটি প্রাইভেট কারের পেছনের ডালার নিচ থেকে প্রায় ৩৭ লাখ টাকা উদ্ধারের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী মো. ছাবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই অর্থ তিনি অবৈধ উপায়ে অর্জন করে পাচারের উদ্দেশ্যে পরিবহন করছিলেন বলে দুদকের প্রাথমিক তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে।
সোমবার দুদকের রাজশাহী সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে সংস্থাটির সহকারী পরিচালক মো. ইসমাইল হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি রুজু করেন। মামলায় প্রধান আসামি ছাবিউল ইসলাম ছাড়াও অর্থের অবৈধ স্থানান্তর ও মালিকানা গোপনের কাজে সহায়তা করার অভিযোগে আরও দুজনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অভিযুক্ত এই প্রকৌশলী বর্তমানে এলজিইডির প্রধান কার্যালয়ে সংযুক্ত থাকলেও এর আগে গাইবান্ধার নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। মামলার অন্য দুই আসামি হলেন বাপ্পি কুমার দাস এবং তার পুত্র রিন্তু কুমার দাস।
ঘটনার সূত্রপাত হয় ২০২৪ সালের ১৪ মার্চ, যখন নাটোরের সিংড়া উপজেলায় পুলিশ একটি ভাড়ায় চালিত প্রাইভেট কারে নিয়মিত তল্লাশি পরিচালনা করে। তল্লাশির এক পর্যায়ে গাড়ির পেছনের ডালার নিচে অত্যন্ত সুকৌশলে লুকিয়ে রাখা ৩৬ লাখ ৯৪ হাজার ৩০০ টাকা উদ্ধার করা হয়। এত বড় অঙ্কের নগদ অর্থ সাথে রাখার বিষয়ে ছাবিউল ইসলাম তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বৈধ নথিপত্র বা গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হন। পরবর্তীতে বিষয়টি দুদকের নজরে এলে তারা বিস্তারিত অনুসন্ধান শুরু করে এবং এই অর্থের সাথে ছাবিউল ইসলামের পদস্থ ক্ষমতার অপব্যবহার ও বিভিন্ন দুর্নীতির যোগসূত্র খুঁজে পায়।
দুদকের অনুসন্ধান প্রতিবেদন এবং মামলার এজাহারভুক্ত তথ্যাবলি নিচের সারণিতে সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
| বিষয়ের বিবরণ | বিস্তারিত তথ্য ও পরিসংখ্যান |
|---|---|
| প্রধান অভিযুক্তের নাম | মো. ছাবিউল ইসলাম (নির্বাহী প্রকৌশলী, এলজিইডি) |
| সহযোগী আসামি | বাপ্পি কুমার দাস ও রিন্তু কুমার দাস |
| উদ্ধারকৃত অর্থের পরিমাণ | ৩৬ লাখ ৯৪ হাজার ৩০০ টাকা |
| উদ্ধারের তারিখ ও স্থান | ১৪ মার্চ, সিংড়া উপজেলা, নাটোর |
| মামলার আইনি ধারা | মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ (ধারা ৪-এর ২ ও ৩) |
| অভিযোগের ধরণ | অবৈধ পথে অর্জিত অর্থ গোপন রাখা, বহন ও স্থানান্তর |
| বর্তমান কর্মস্থল | এলজিইডি সদর দপ্তর, ঢাকা (সংযুক্ত) |
দুদকের অনুসন্ধানে স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে যে, উদ্ধারকৃত অর্থ ছাবিউল ইসলামের বৈধ আয়ের সাথে কোনোভাবেই সঙ্গতিপূর্ণ নয়। তিনি সরকারি দায়িত্ব পালনের সময় বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে এই সম্পদ গড়ে তুলেছেন। পাচারের উদ্দেশ্যেই তিনি এই অর্থ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নিয়ে যাচ্ছিলেন। মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় বলা হয়েছে, অবৈধ উপায়ে অর্জিত অর্থের উৎস গোপন করা বা তা বৈধ করার চেষ্টা করা দণ্ডনীয় অপরাধ। দোষী প্রমাণিত হলে এই আইনে কঠোর কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, ছাবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে ইতিপূর্বেও বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম ও কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ ছিল। বর্তমান মামলাটির তদন্তভার দুদকের একটি বিশেষায়িত টিমকে দেওয়া হয়েছে। তারা আসামিদের বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা আরোপের পাশাপাশি তাদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। শীঘ্রই আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হতে পারে। সরকারের শূন্য সহনশীলতা নীতির আলোকে এই ধরনের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে বলে সংস্থাটি আশ্বস্ত করেছে।