খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২৫
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা বিরোধ বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) ভয়াবহ রূপ নেয়। সন্ধ্যার কিছু পরেই শহরের ব্যস্ত কান্দিপাড়া মোড় এলাকায় প্রতিপক্ষের এলোপাতাড়ি গুলিতে তিনজন গুলিবিদ্ধ হন। শান্ত পরিবেশ হঠাৎ গুলির শব্দে থমকে যায়, আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে পুরো এলাকায়। স্থানীয়রা অনেকেই দোকানপাট বন্ধ করে দ্রুত নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেন।
গুলিবিদ্ধ তিনজন হলেন—কান্দিপাড়া এলাকার নাজমুল আহমেদ টুটুল (৩৬), শিহাব (৩০) এবং সাজু মিয়া। তাদের মধ্যে টুটুল ও শিহাবকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সাজু মিয়াকেও প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
নিচের টেবিলে আহতদের অবস্থা তুলে ধরা হলো—
| নাম | বয়স | এলাকা | আঘাতের ধরন | চিকিৎসা |
|---|---|---|---|---|
| নাজমুল আহমেদ টুটুল | ৩৬ | কান্দিপাড়া | রাবার বুলেটের আঘাত | জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি |
| শিহাব | ৩০ | কান্দিপাড়া | রাবার বুলেটের আঘাত | জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি |
| সাজু মিয়া | — | কান্দিপাড়া | গুলিবিদ্ধ | প্রাথমিক চিকিৎসা |
সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আজহারুল ইসলাম ঘটনাটি নিশ্চিত করে বলেন, “এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই গ্রুপের মধ্যে বিরোধ অনেকদিন ধরেই চলছিল। এর জের ধরে আজ সন্ধ্যায় এক পক্ষের অবস্থানের সময় প্রতিপক্ষ হঠাৎ এসে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। এতে তিনজন গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন।”
তিনি আরও জানান, আধিপত্যের পেছনে স্থায়ী কোনো বাণিজ্যিক স্বার্থ, ব্যক্তিগত শত্রুতা, নাকি আরও বড় কোনো অপরাধী চক্রের সম্পৃক্ততা আছে কি না—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। “ঘটনার সাথে কারা জড়িত আমরা খুঁজে বের করছি। যেই হোক, দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে,” বলেন ওসি।
জেলা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক ডা. নুর ইবনে বিন সিফাত বলেন, “দুইজনের শরীরের বেশ কয়েক জায়গায় রাবার বুলেট লেগেছে। তাদের ভর্তি রেখে চিকিৎসা চলছে। অবস্থা আপাতত স্থিতিশীল, তবে পর্যবেক্ষণে রাখা জরুরি।”
ঘটনার পর কান্দিপাড়া এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা জানান, দুই গ্রুপের এই আধিপত্য বিস্তারের লড়াই অনেক পুরোনো হলেও সাম্প্রতিক সময়ে তা আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করেছে যাতে পরিস্থিতি আরও অবনতি না হয়।
এ ঘটনায় এলাকায় নতুন করে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। সাধারণ মানুষের দাবি—দুই গ্রুপের এই সংঘাত থামাতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। না হলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।