নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: 2শে শ্রাবণ ১৪৩২ | ১৭ই জুলাই ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
গোপালগঞ্জে আটকে থাকা এনসিপি নেতাদের উদ্ধার করতে সেনাবাহিনীর ব্যবহৃত এপিসি গাড়ি এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে। ওই সাঁজোয়া যানেই এনসিপি নেতাদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়, যা দেখেই অনেকের কৌতূহল—এপিসি আসলে কী?
এপিসি বা আর্মার্ড পারসনেল কেরিয়ার কী?
এপিসি বা আর্মার্ড পারসনেল কেরিয়ার হলো সেনাবাহিনীর একটি সাঁজোয়া জনবাহন, যার প্রধান উদ্দেশ্য হলো বিশেষ করে সংঘাতপূর্ণ বা যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সেনা সদস্যদের নিরাপদে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় পৌঁছে দেওয়া। শুধু সামরিক বাহিনীই নয়, অনেক সময় সন্ত্রাস দমন, দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণ বা দুর্যোগ পরিস্থিতিতেও এই গাড়ি ব্যবহৃত হয়।
কি কাজে লাগে এপিসি?
যুদ্ধক্ষেত্রে সৈন্য পরিবহন, গুলির আঘাত ও বিস্ফোরণ থেকে সুরক্ষা, সন্ত্রাস দমন অভিযান বা দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণে অংশগ্রহণ, আহতদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।
কি আছে এপিসি-র ভেতরে?
সাঁজোয়া কাঠামো
এপিসি গঠনে ব্যবহৃত হয় স্টিল বা উন্নত কম্পোজিট ম্যাটেরিয়াল, যা গুলি, গ্রেনেড বা মাইনের বিস্ফোরণ থেকেও সুরক্ষা দিতে সক্ষম।
অস্ত্রব্যবস্থা
এতে ঘূর্ণনযোগ্য টারেট বা হ্যাচের মাধ্যমে সেনা সদস্যরা গুলি চালাতে পারেন। অনেক এপিসি-তে থাকে হেভি মেশিন গান বা গ্রেনেড লঞ্চার। কিছু আধুনিক মডেলে রয়েছে রিমোট ওয়েপন স্টেশন (আর ডব্লিউ স্টেশন, যা ভিতর থেকে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের সুবিধা দেয়।
সৈন্য পরিবহনের ব্যবস্থা
একটি এপিসি সাধারণত ৬ থেকে ১২ জন সেনা বহন করতে পারে। ভেতরে থাকে নিরাপদ সিট, অস্ত্র রাখার জায়গা এবং প্রয়োজনীয় স্ট্র্যাপ।
যোগাযোগ ব্যবস্থা
আধুনিক এপিসি-তে থাকে রেডিও, ইন্টারকম, জিপিএস, সেন্সর এবং কখনো কখনো ডিজিটাল কমান্ড সিস্টেম।
চলাচল সক্ষমতা
চার বা ছয় চাকার হেভি ডিউটি চ্যাসিস, অনেক এপিসি পানির মধ্যেও চলতে পারে। ট্র্যাকচালিত (ট্যাংকের মতো) মডেলও রয়েছে, যা কাদা, পাথুরে এলাকা বা দুর্গম স্থানে চলতে পারে।
চিকিৎসা সুবিধা
কিছু মডেল অ্যাম্বুলেন্স রূপে ব্যবহৃত হয়। এতে প্রাথমিক চিকিৎসার সরঞ্জামসহ আহত সৈন্য পরিবহনের বিশেষ ব্যবস্থা থাকে।
গোপালগঞ্জের ঘটনাকে কেন্দ্র করে যেভাবে সেনাবাহিনীর এপিসি নিয়ে জনমনে কৌতূহল তৈরি হয়েছে, তা বোঝায় এই যন্ত্রের গুরুত্ব। আধুনিক যুদ্ধ ও দুর্যোগ পরিস্থিতিতে এপিসি একটি অপরিহার্য উপাদান, যা সেনাদের জীবন রক্ষা থেকে শুরু করে কৌশলগত সাফল্য অর্জনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
খবরওয়ালা/এমএজেড