বার্সেলোনা ফুটবল ক্লাব দ্বিতীয় লেগে ৩-০ গোলে জিতলেও কোপা দেল রে-এর সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নিতে হয়েছে। দুই লেগ মিলিয়ে অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদ ৪-৩ ব্যবধানে এগিয়ে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে। এই ফলাফল বার্সেলোনার সমর্থকদের জন্য হতাশাজনক হলেও ম্যাচটি কাতালান দলের জন্য সাহসী লড়াই হিসেবে মনে থাকবে।
গত মাসে মাদ্রিদের মাঠে প্রথম লেগে ৪-০ গোলে হেরে বড় ব্যবধান সৃষ্টি হয়েছিল, যা দ্বিতীয় লেগে ঘরের মাঠে পার করতে বার্সেলোনার জন্য কঠিন হয়ে পড়েছিল। খেলোয়াড়রা শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক কৌশল গ্রহণ করে। ২৯ মিনিটে মার্ক বার্নাল প্রথম গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে রাফিনিয়া পেনাল্টি থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। দ্বিতীয়ার্ধে আবারও ৭২ মিনিটে বার্নাল গোল করেন, যা ম্যাচে ৩-০ ব্যবধান তৈরি করে।
তবে শেষ পর্যন্ত এই জয় যথেষ্ট হয়নি। অ্যাতলেতিকোর রক্ষণভাগ দৃঢ় থাকার কারণে বার্সেলোনা ফাইনালের জন্য প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত গোল করতে পারেনি।
ম্যাচ শেষে বার্সেলোনার স্ট্রাইকার রাফিনিয়া বলেন, “৪-০ ব্যবধান কাটিয়ে ওঠা সহজ ছিল না। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি এবং ফাইনালে যেতে চাইছিলাম। তাই হতাশা স্বাভাবিক।” অন্যদিকে, অ্যাতলেতিকোর গোলরক্ষক হুয়ান মোসো মন্তব্য করেন, “১৮০ মিনিটের এই লড়াই খুব কঠিন ছিল। আমরা কঠিন সময় পার করেছি, তবে শেষ পর্যন্ত লক্ষ্য অর্জন করতে পেরেছি।”
অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদের কোচ দিয়েগো সিমিওন দলের জন্য সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “প্রথম লেগে তৈরি ব্যবধানকে ধরে রাখা বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। খেলোয়াড়রা দায়িত্বশীলভাবে নিজেদের ভূমিকা পালন করেছে এবং ইতিহাস গড়ে ফাইনালে উঠেছে।” ২০১২-১৩ মৌসুমের পর এটি অ্যাতলেতিকোর প্রথমবারের মতো কোপা দেল রে ফাইনালে যাওয়ার অর্জন।
নিচে দুই লেগের ফলাফলের সংক্ষিপ্ত পরিসংখ্যান তুলে ধরা হলো—
| বিষয় | প্রথম লেগ (মাদ্রিদ) | দ্বিতীয় লেগ (বার্সেলোনা) | দুই লেগের যোগফল |
|---|---|---|---|
| গোল | অ্যাতলেতিকো ৪-০ বার্সেলোনা | বার্সেলোনা ৩-০ অ্যাতলেতিকো | অ্যাতলেতিকো ৪-৩ বার্সেলোনা |
| গোলদাতা | নিকোলাস গিমেনেজ, লুইস সুয়ারেজ, দুটি আরও | মার্ক বার্নাল ২, রাফিনিয়া ১ | – |
| রক্ষণ | অ্যাতলেতিকো শক্তিশালী | বার্সেলোনা আক্রমণাত্মক চেষ্টা | অ্যাতলেতিকোর রক্ষণ জোরদারভাবে ফাইনাল নিশ্চিত করেছে |
| ফলাফল | অ্যাতলেতিকো জয়ী | বার্সেলোনা জয়ী | অ্যাতলেতিকো ফাইনালে উঠেছে |
এই সেমিফাইনাল দেখিয়েছে যে, কেবল বড় জয়ই ফাইনালের জন্য যথেষ্ট নয়। রক্ষণভাগের পরিকল্পনা, দলগত একতাবদ্ধতা এবং প্রথম লেগের ব্যবধান পার করার ক্ষমতা প্রতিযোগিতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বার্সেলোনা এই লড়াই থেকে শিখবে, যেখানে আক্রমণাত্মক কৌশল যথেষ্ট হলেও পুরো ব্যবধান কভার করা প্রয়োজন। অন্যদিকে, অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদ দীর্ঘসময় ধরে রক্ষণে সংহত থেকে জয় নিশ্চিত করেছে এবং ফাইনালে নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছে।