খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৬ মে ২০২৬
হামের প্রাদুর্ভাবে দেশে তিন শতাধিক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এবং স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমের বিচার দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে ছাত্রসংগঠন বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী। আজ বুধবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে শিশুদের প্রতীকী মরদেহ নিয়ে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। সমাবেশ থেকে হামকে ‘মহামারি’ হিসেবে ঘোষণা করে তা প্রতিরোধে সর্বাত্মক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।
সমাবেশে উপস্থিত বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর নেতা-কর্মীরা হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে তৎকালীন প্রশাসনের ব্যর্থতাকে দায়ী করেন। তাঁরা উল্লেখ করেন, বিপুল সংখ্যক শিশুর এই প্রাণহানি কেবল প্রাকৃতিক বিপর্যয় নয়, বরং এটি একটি ‘মানবসৃষ্ট’ সংকট। বক্তারা তৎকালীন সরকারপ্রধান ও স্বাস্থ্য উপদেষ্টার অবহেলাকে এই মৃত্যুর জন্য দায়ী করে তাঁদের কঠোর শাস্তির দাবি জানান।
সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি দিলীপ রায় বলেন, “জনগণ গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে একটি ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন ঘটিয়েছে সুন্দর আগামীর প্রত্যাশায়, আর সেই আগামী হলো আমাদের শিশুরা। কিন্তু বর্তমানে শিশুদের জীবনের নিরাপত্তা চরম সংকটে।” তিনি অভিযোগ করেন যে, সংসদে মার্কিন চুক্তি বা হামের মতো জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয় না এবং প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো এ বিষয়ে রহস্যজনকভাবে নীরব।
বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সাধারণ সম্পাদক জাবির আহমেদ জুবেল তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, দেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে ৫৮টিতেই হামের প্রকোপ ছড়িয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকার নিজেদের স্বার্থ ও মুনাফার কথা ভেবে শিশুদের মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছে। আমরা সাবেক কিংবা বর্তমান—কোনো সরকারের আমলেই এই সংকট মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ দেখিনি।” এছাড়া, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে হামের অস্থায়ী মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপনে বাধা দেওয়ায় তিনি ডাকসু নেতাদের তীব্র সমালোচনা করেন।
সমাবেশে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, দেশে হামের সংক্রমণ ও প্রাণহানির একটি ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে। নিচে সংক্ষেপে পরিস্থিতি তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | বিবরণ |
| মোট মৃত্যুর সংখ্যা | ৩০০ জনের অধিক শিশু (সরকারি হিসাব অনুযায়ী) |
| ভৌগোলিক বিস্তার | ৬৪টি জেলার মধ্যে ৫৮টি জেলা আক্রান্ত |
| প্রধান দাবি | হামকে ‘মহামারি’ ঘোষণা করা এবং দায়ীদের বিচার |
| তৎকালীন প্রশাসনের সংশ্লিষ্টতা | সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম |
সংগঠনটির কেন্দ্রীয় অর্থ সম্পাদক নুজিয়া হাসান রাশা দ্রুততার সাথে এই মহামারি ঠেকানোর জন্য বর্তমান সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “সংস্কারের নামে সাবেক প্রধান উপদেষ্টা কেবল ব্যক্তিগত সুবিধা গ্রহণ করেছেন। অথচ সাধারণ মানুষকে তাঁর সন্তানের মরদেহ নিয়ে হাসপাতালের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হয়েছে।” তিনি বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে প্রশ্ন ছুড়ে দেন যে, সন্তান হারানো পিতাদের সান্ত্বনা দেওয়ার জন্য সরকার আসলে কী পদক্ষেপ নিচ্ছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম রিয়াদ তথ্য দেন যে, দেশে যখন তিন শতাধিক শিশু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাচ্ছিল, তখন সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বিদেশে অবস্থান করছিলেন এবং কূটনৈতিক শিষ্টাচার পালনে ব্যস্ত ছিলেন। এটি সাধারণ মানুষের জীবনের প্রতি চরম অবজ্ঞার শামিল বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর এই বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে মূলত তিনটি দাবি জোরালোভাবে উত্থাপন করা হয়েছে:
১. হামকে অবিলম্বে জাতীয় মহামারি হিসেবে ঘোষণা করা।
২. সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও স্বাস্থ্য উপদেষ্টাকে তদন্তের মাধ্যমে বিচারের আওতায় আনা।
৩. সারাদেশে হাম প্রতিরোধে জরুরি ভিত্তিতে টিকাদান কর্মসূচি ও বিশেষায়িত চিকিৎসা ক্যাম্প স্থাপন করা।
সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল রাজু ভাস্কর্য থেকে শুরু হয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। বক্তারা হুঁশিয়ারি দেন যে, যদি অবিলম্বে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হয়, তবে সাধারণ ছাত্র-জনতাকে সাথে নিয়ে আরও বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।