খবরওয়ালা আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: 20শে চৈত্র ১৪৩১ | ৩ই এপ্রিল ২০২৫ | 1149 Dhu al-Hijjah 5
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আমদানিকৃত পণ্যের ওপর ব্যাপক শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন, যা বিশ্বব্যাপী অর্থনীতি ও বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। অনেকেই এই পদক্ষেপকে ট্রেড যুদ্ধ বা শুল্ক সংঘাতের সূচনা হিসেবে দেখছেন। এই ঘোষণার পর বিভিন্ন দেশ তাদের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)
ইইউ মার্কিন মোটরসাইকেল, হুইস্কি এবং জিন্সের মতো পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সভাপতি উরসুলা ভন ডের লেইন শুল্ককে ‘বিশ্ব অর্থনীতির জন্য বড় আঘাত’ হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং বলেছেন, নতুন শুল্কের কারণে বিশ্বজুড়ে অনিশ্চয়তা বাড়বে, যা লাখো মানুষের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। ইইউ বাণিজ্য কমিশনার মারোস সেফকোভিচ জানিয়েছেন, তিনি মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার জন্য প্রস্তুত রয়েছেন, এবং যদি একটি ন্যায্য সমঝোতায় পৌঁছানো না যায়, তবে তারা চুপ করে বসে থাকবে না।
চীন
চীন জানিয়েছে, মার্কিন শুল্কের বিরুদ্ধে তারা দৃঢ় বিরোধিতা করবে এবং নিজেদের স্বার্থ রক্ষার জন্য পাল্টা পদক্ষেপ নেবে।
জাপান
জাপানের বাণিজ্যমন্ত্রী ইয়োজি মুটো বলেছেন, এই শুল্ক ব্যবস্থা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং যুক্তরাষ্ট্রকে অনুরোধ করা হবে যাতে জাপানকে এই শুল্ক থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
কানাডা
কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেছেন, কানাডা এই শুল্কের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া জানাবে এবং প্রয়োজন হলে শক্তিশালী পদক্ষেপ নেবে।
ব্রাজিল
ব্রাজিল বলেছে, তারা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে সহযোগিতা নিশ্চিত করার জন্য সমস্ত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। ব্রাজিল বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার কাছে অভিযোগ করার কথাও জানিয়েছে।
জার্মানি
জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শোলজ বলেছেন, এই শুল্ক “ভুল” এবং এটি বিশ্ববাজারে এবং মার্কিন অর্থনীতিতেও ক্ষতি করবে। তিনি জানিয়েছেন, বিশ্বকে সহযোগিতা চাই, সংঘাত নয়।
যুক্তরাজ্য
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কাইর স্টারমার বলেছেন, তারা আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদনের জন্য কাজ করবে, তবে তা শুধুমাত্র যদি এটি যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বার্থে উপযোগী হয়।
ফ্রান্স
ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ শুক্রবার এলিসি প্রাসাদে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করবেন, যাতে শুল্ক আরোপের কারণে ক্ষতিগ্রস্তদের সমস্যাগুলি সমাধান করা যায়।
ইতালি
ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি এই সিদ্ধান্তকে “ভুল” বলেও মন্তব্য করেছেন এবং বলেছেন, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য যুদ্ধ প্রতিরোধ করতে একটি চুক্তি করতে চেষ্টা করবেন।
দক্ষিণ কোরিয়া
দক্ষিণ কোরিয়ার শিল্প মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি অটোমোবাইলসহ ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়িক খাতের জন্য জরুরি সহায়তা ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।
স্পেন
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ বলেছেন, স্পেন একটি উন্মুক্ত বাণিজ্য ব্যবস্থা বজায় রাখবে এবং সবার জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টির প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবে।
বেলজিয়াম
বেলজিয়ামের উপ-প্রধানমন্ত্রী ম্যাক্সিম প্রেভোট বলেছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যদি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যবস্থায় একতরফা পদক্ষেপ নেয়, তাহলে তা তাদের জন্য বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে।
নরওয়ে
নরওয়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, এই শুল্ক ব্যবস্থা ন্যাটো চুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশের লঙ্ঘন হতে পারে এবং এটি বিশ্বব্যাপী সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
খবরওয়ালা/আরডি