খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৩০ জুলাই ২০২৫
জাতীয় পার্টির (জাপা) একাধিক নেতা সাম্প্রতিক সময়ে দল থেকে বাদ পড়েছেন। বিভিন্ন সময় দলটি আলোচনায় আসে। জুলাই আন্দোলনে আাওয়ামী লীগের সহযোগী হিসেবেও সমালোচিত হয় তারা। এমন প্রেক্ষাপটেও ২০২৪ সালে জাপার আয় ও ব্যয়—দুটোই বেড়েছে।
বুধবার (৩০ জুলাই) দলটির অতিরিক্ত মহাসচিব রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়ার নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদের কাছে ২০২৪ পঞ্জিকা বছরের নিরীক্ষা প্রতিবেদন জমা দেন।
রেজাউল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, ২০২৪ সালে জাতীয় পার্টি আয় করেছে ২ কোটি ৬৪ লাখ ৩৮ হাজার ৯৩৮ টাকা। ব্যয় করেছে ১ কোটি ৭৯ লাখ ৮৮ হাজার ৪৪ টাকা। হিসাব অনুযায়ী, দলটির বর্তমান স্থিতি ৮৪ লাখ ৫০ হাজার ৮৯৪ টাকা।
ভোটের বছর ২০২৩ সালে জাপার আয় ছিল ২ কোটি ২২ লাখ ২ হাজার ৪০৫ টাকা। ব্যয় হয়েছিল ১ কোটি ১৩ লাখ ১৮ হাজার ৫২৫ টাকা।
দলটির তথ্যমতে, মনোনয়ন ফরম বিক্রি, সদস্যদের চাঁদা ও প্রকাশনা বিক্রির মাধ্যমে আয় করে জাতীয় পার্টি। ব্যয় হয় প্রচার কার্যক্রম, অফিস পরিচালনা ও কর্মচারীদের বেতনসহ বিভিন্ন খাতে।
২০২২ সালে দলটির আয় ছিল ২ কোটি ২৯ লাখ ১৪ হাজার ৯৬৮ টাকা। ব্যয় ১ কোটি ২৮ লাখ ৩৭ হাজার ৫৪২ টাকা। সে সময় ব্যাংকে দলের স্থিতি ছিল ১ কোটি ৭ লাখ ৭৭ হাজার ৪২৬ টাকা।
২০২১ সালে আয় ছিল ২ কোটি ৯ লাখ ৮৫ হাজার ১৫৪ টাকা। ব্যয় ৮৪ লাখ ৬৮ হাজার ১৩৪ টাকা। বছর শেষে স্থিতি দাঁড়ায় ১ কোটি ২৫ লাখ ১৭ হাজার ২০ টাকা।
২০২০ সালে জাপার ব্যয় ছিল ৭৬ লাখ ৪ হাজার ১২০ টাকা। ওই বছর উদ্বৃত্ত ছিল ৫১ লাখ ৬৮ হাজার ৭৫৭ টাকা ৫৪ পয়সা।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী, প্রতি বছর ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে নিবন্ধিত দলগুলোকে আগের পঞ্জিকা বছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব স্বীকৃত চার্টার্ড অ্যাকাউন্টিং ফার্ম দিয়ে নিরীক্ষা করে নির্বাচন কমিশনে জমা দিতে হয়। ২০০৮ সালে নিবন্ধন প্রথা চালুর পর থেকে এ নিয়ম চালু রয়েছে।
বর্তমানে নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সংখ্যা ৫০টি। এর মধ্যে রয়েছে বিএনপি, জামায়াত ও জাতীয় পার্টি। তবে প্রথমবারের মতো আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত থাকায় এবার দলটি নিরীক্ষিত হিসাব জমা দিচ্ছে না। আইন অনুযায়ী, কোনো দল পরপর তিন বছর হিসাব জমা না দিলে তাদের নিবন্ধন বাতিলের বিধান রয়েছে।
খবরওয়ালা/এন