খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ৭ জুন ২০২৫
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উপজেলা সমন্বয় কমিটি গঠনের দুই দিনের মাথায় রিফাত বিন আতিক ও সাজ্জাদ খান নামে দুই সদস্য পদত্যাগ করেছেন। বুধবার (৪ জুন) ১৭ সদস্যের এই কমিটির অনুমোদন দেন এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন ও দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ।
শুক্রবার (৬ জুন) বিকেলে ফেসবুকে ওই দুজন পৃথক স্ট্যাটাস দিয়ে তাঁদের পদত্যাগের কথা জানান।
কমিটিতে মো. আশরাফ শেখকে করা হয়েছে প্রধান সমন্বয়কারী। যুগ্ম সমন্বয়কারী করা হয়েছে দুজনকে এবং অন্য ১৪ জনকে রাখা হয়েছে সাধারণ সদস্য হিসেবে। কমিটি আগামী ৩ মাস অথবা আহ্বায়ক কমিটি গঠিত না হওয়া পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
পদত্যাগকারী রিফাত বিন আতিক তাঁর ফেসবুক স্ট্যাটাসে লেখেন,‘সদ্যঘোষিত জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ভাঙ্গা উপজেলা (ফরিদপুর) সমন্বয় কমিটি থেকে স্বেচ্ছায় এবং সজ্ঞানে পদত্যাগ করছি!’
রিফাত বলেন, ‘আমি বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন করেছিলাম বিবেকের কারণে। কোনো রাজনৈতিক দল বা রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার আমার ইচ্ছা নেই। আমি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি সরকারি প্রকল্পে কাজ করি। আমার পরিবারের সদস্যরাও সরকারি চাকরিতে যুক্ত। এ কারণে আমার পক্ষে রাজনীতি করা সম্ভব নয়। আমার সঙ্গে এনসিপি কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে কোনো যোগাযোগ না করেই কমিটিতে রাখা হয়েছে। আমি যে এনসিপির নেতা হব, তা আমি জানতাম না। কমিটিতে নাম দেখার পরই আমি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
অন্যদিকে সাজ্জাদ খান তাঁর ফেসবুক পোস্টে ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, ‘আমি মো. সাজ্জাদ খান, সদস্য ফরিদপুর জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন আহ্বায়ক কমিটি (ভাঙ্গা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখপাত্র)। আমি এই কমিটি বয়কট করলাম এবং আমার নাম এই কমিটি থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করছি। কেন্দ্রের যাঁরা নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তাঁদের বলতে চাই, যে কমিটিতে বৈষম্য আছে, বিপ্লবীদের বাদ দিয়ে তেলবাজদের জায়গা দেওয়া হয়েছে, সেটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’
এ ব্যাপারে সাজ্জাদ খান বলেন, এই কমিটির দায়িত্ব শুধু একটা আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা। ভাঙ্গার আন্দোলনে যাঁরা সংগ্রামী ছিলেন, সেই বিপ্লবীদের জায়গা দেওয়া হয়নি সমন্বয় কমিটিতে। বিপ্লবীরা না থাকলে বিপ্লবীদের খুঁজে বের করবে কীভাবে? তাই আমি অভিমান করে পদত্যাগ করেছি।’
এসব অভিযোগের ব্যাপারে এনসিপির ফরিদপুর অঞ্চলের সংগঠক রাকিব হাসান বলেন, ‘রিফাত বিন আতিক পদ পেয়েছেন, কিন্তু আগে থেকে জানেন না ব্যাপারটি এমন হওয়ার কথা ছিল না। আমাদের কেন্দ্রীয় দুই সদস্যের দায়িত্ব ছিল তাঁদের সাথে যোগাযোগ করা। এখানে হয়তো একটা মিস কমিউনিকেশন হয়েছে। সাজ্জাদ প্রত্যাশিত পদ না পাওয়ায় বিপ্লবীদের জায়গা না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। আমরা এ বিষয়গুলো সমাধানের উদ্যোগ নেব।’
খবরওয়ালা/এসআর