খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 15শে পৌষ ১৪৩২ | ২৯ই ডিসেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
শহিদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা এবং জাতীয় নিরাপত্তা সুসংহত করার লক্ষ্যে নতুন করে চার দফা দাবি ঘোষণা করেছে নাগরিক অধিকার রক্ষা ও ফ্যাসিবাদবিরোধী প্ল্যাটফর্ম ‘ইনকিলাব মঞ্চ’। রবিবার (২৮ ডিসেম্বর) রাতে সংগঠনটির অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে এক বিবৃতির মাধ্যমে এই কঠোর কর্মসূচি ও দাবিগুলো জাতির সামনে তুলে ধরা হয়। জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানের চেতনাকে সমুন্নত রাখা এবং সীমান্তের ওপারে পালিয়ে থাকা অপরাধীদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার নিশ্চিত করাই এই ঘোষণার মূল লক্ষ্য বলে সংগঠনটি জানিয়েছে।
ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পেছনে একটি সুসংগঠিত চক্র সক্রিয় ছিল। এই চক্রের মূল হোতা থেকে শুরু করে যারা অর্থ ও আশ্রয় দিয়ে সহায়তা করেছে, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। আন্দোলনের অন্যতম এই লড়াকু সেনানিকে হত্যার মাধ্যমে মূলত গণঅভ্যুত্থানের স্পিরিটকে আঘাত করার চেষ্টা করা হয়েছে। তাই এই হত্যাকাণ্ডের বিচারকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করার দাবি জানিয়েছে মঞ্চ।
সংগঠনটির ঘোষিত ৪ দফা দাবির বিস্তারিত বিশ্লেষণ নিচে একটি তালিকার মাধ্যমে উপস্থাপন করা হলো:
| ক্রমিক | দাবির শিরোনাম | বিস্তারিত বিবরণ |
|---|---|---|
| ১ | দ্রুত বিচার সম্পন্ন | খুনি, পরিকল্পনাকারী ও সহায়তাকারীসহ পুরো চক্রের বিচার আগামী ২৪ দিনের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে। |
| ২ | ওয়ার্ক পারমিট বাতিল | বাংলাদেশে অবস্থানরত সকল ভারতীয় নাগরিকের ওয়ার্ক পারমিট বা কর্মানুমতি অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। |
| ৩ | আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা | ভারত যদি আশ্রয় নেওয়া অপরাধীদের ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানায়, তবে ভারতের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করতে হবে। |
| ৪ | প্রশাসনিক শুদ্ধি অভিযান | সিভিল ও মিলিটারি ইন্টেলিজেন্সে লুকিয়ে থাকা ফ্যাসিস্টের দোসরদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার ও বিচার করতে হবে। |
ইনকিলাব মঞ্চ তাদের দাবিতে আরও উল্লেখ করেছে যে, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বর্তমানে হুমকির মুখে। বিশেষ করে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোতে এখনো বিগত সরকারের অনুগত ব্যক্তিবর্গ ঘাপটি মেরে বসে আছে, যারা জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী কাজ করছে। এদের অবিলম্বে চিহ্নিত করে বিচারের মুখোমুখি করা না হলে রাষ্ট্রের সংস্কার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হবে।
পাশাপাশি ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থান নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। মঞ্চের নেতারা মনে করেন, বহু অপরাধী পার্শ্ববর্তী দেশে আশ্রয় নিয়ে বাংলাদেশের অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করছে। ভারত যদি তাদের প্রত্যর্পণ না করে, তবে আন্তর্জাতিক আইনি লড়াইয়ে যাওয়ার কোনো বিকল্প নেই। একই সঙ্গে দেশের কর্মসংস্থানে দেশীয় নাগরিকদের অধিকার নিশ্চিত করতে ভারতীয়দের কর্মানুমতি বাতিলের বিষয়টিকেও তারা জাতীয় স্বার্থের অংশ হিসেবে দেখছেন।
ইনকিলাব মঞ্চের এই ৪ দফা ঘোষণা পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রার যোগ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে তরুণ সমাজ ও অভ্যুত্থান পরবর্তী সংস্কারকামী শক্তির মধ্যে এই দাবিগুলো নিয়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সংগঠনটি হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এই দাবিগুলো পূরণ না হলে তারা রাজপথে আরও কঠোর কর্মসূচি পালন করবে।