খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২ এপ্রিল ২০২৫
ভারতের কেন্দ্রীয় ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) এবং তাদের মূল সংগঠন কট্টর হিন্দুত্ববাদী রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস) এর মধ্যে গত ১১ বছরে সম্পর্ক কিছুটা শীতল হয়ে উঠেছিল। তবে ভারতের গত লোকসভা নির্বাচনে হতাশাজনক ফলাফল এবং বাংলাদেশের অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতার পালাবদল, উভয় সংগঠনকে আবার কাছাকাছি এনেছে। এই মন্তব্য করেছেন ভারতের বিখ্যাত আরএসএস গবেষক দিলীপ দিওধর, যিনি ইকোনমিক টাইমসে এক সাক্ষাৎকারে এই বিষয়টি তুলে ধরেন।
দিলীপ দিওধর বলেন, গত ১১ বছরে আরএসএস এবং বিজেপির মধ্যে সম্পর্ক শীতল হয়ে গিয়েছিল। বিশেষ করে কর্ণাটক এবং উত্তর প্রদেশের বিধানসভা নির্বাচনের সময় তাদের সম্পর্ক আরও খারাপ হয়ে ছিল। ওই সময়ে বিজেপি আরএসএসের পরামর্শ উপেক্ষা করেছিল। তবে ২০২৪
সালের লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল এবং বাংলাদেশের পরিস্থিতির পরিবর্তন উভয় সংগঠনকে আবার একত্রিত করেছে।
দিলীপ দিওধর আরও উল্লেখ করেন, আরএসএস তাদের কর্মীদের নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে নিরুৎসাহিত করেছিল। তিনি বলেন, ‘‘আরএসএস নেতৃত্ব থেকে কোনো নির্দেশনা ছিল না যে, তাদের কর্মীরা নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেবেন না। তবে ব্যক্তিগতভাবে কেউ চাইলে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে পারতেন।’’ এই সিদ্ধান্তের প্রভাব বিধানসভা ও লোকসভা নির্বাচনে স্পষ্টভাবে দেখা গেছে।
দিলীপ দিওধর জানান, আরএসএস বিজেপি নেতৃত্বের প্রতি নাখোশ ছিল এবং লোকসভা নির্বাচনের ফলাফলের পর সংঘ প্রধান মোহন ভগবত ‘‘ব্যক্তি পূজা’’ এবং ক্ষমতার অতিরিক্ত কেন্দ্রীকরণের বিরুদ্ধে মন্তব্য করেছিলেন। তিনি আরও বলেন, আরএসএস এবং বিজেপি তাদের মধ্যকার মতপার্থক্য পিছনে ফেলার চেষ্টা করছে এবং এর পেছনে বিশাল ভূমিকা পালন করছে বাংলাদেশে হাসিনা সরকারের পতন।
দিলীপ দিওধর বলেন, সংঘ এবং বিজেপি উদ্বিগ্ন ছিল যে, বাংলাদেশে যেমন সরকার পরিবর্তন হয়েছে রাজপথে বিক্ষোভের মাধ্যমে, তেমনি কিছু শক্তি ভারতেও এমন ঘটনা ঘটাতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে সরকার পতনের পর ভারতের বিরোধী নেতারা একই ধরনের ঘটনার আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন।
অতীতে, ২০০০ সালে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ী যখন আরএসএস প্রধান কেএস সুদর্শনের সাথে রেশিমবাগে গিয়েছিলেন, তখন সুদর্শন বাজপেয়ীকে উপেক্ষা করে নিজেকে দূরে রেখেছিলেন। তবে এবার, আরএসএস প্রধান মোহন ভগবত নরেন্দ্র মোদিকে স্বাগত জানিয়েছেন। রোববার, নাগপুরে মোদি এবং ভগবত এক মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন এবং মোদি সংঘের প্রশংসা করেন, যা তাদের সম্পর্কের ঘনিষ্ঠতার প্রতিফলন।
সূত্র: ইকোনমিক টাইমস
খবরওয়ালা/এমবি