খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি ২০২৬
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের বৈশ্বিক শ্রমবাজারের উপযোগী করে গড়ে তুলতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। বাহিনীর নিজস্ব ‘সঞ্জীবন প্রকল্প’-এর আওতায় ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট বা বৈদেশিক কর্মসংস্থান কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও কার্যকর করার লক্ষ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে জাপানি ভাষা প্রশিক্ষণ কর্মসূচি। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি, ২০২৬) আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদর দপ্তর থেকে অনলাইনে এই মহতী কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করেন বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ।
উদ্বোধনী বক্তব্যে মহাপরিচালক জানান, এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রমটি সাধারণ শিক্ষা বা ভাষা শিক্ষার মতো নয়; বরং এটি একটি হাইব্রিড ও সম্পূর্ণ ব্যতিক্রমধর্মী মডেল। এটি আনসার-ভিডিপির প্রচলিত অন্যান্য কারিগরি প্রশিক্ষণের চেয়ে মৌলিকভাবে ভিন্ন এবং অনেক বেশি নিবিড়। ৯০ দিন মেয়াদী এই আবাসিক কোর্সে প্রশিক্ষণার্থীদের কেবল ভাষাই শেখানো হবে না, বরং জাপানি সংস্কৃতি এবং কর্মপরিবেশ সম্পর্কেও ব্যবহারিক ধারণা দেওয়া হবে। আগামী ২১ এপ্রিল পর্যন্ত এই নিবিড় প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলমান থাকবে।
আনসার-ভিডিপি জাপানি ভাষা প্রশিক্ষণ কর্মসূচির এক নজরে তথ্যচিত্র:
| বিষয়ের বিবরণ | বিস্তারিত তথ্য |
| প্রকল্পের নাম | সঞ্জীবন প্রকল্প (ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট কার্যক্রম)। |
| প্রশিক্ষণের ধরণ | নিবিড়, আবাসিক ও হাইব্রিড মডেল। |
| প্রশিক্ষণের মেয়াদ | ৯০ দিন (২১ এপ্রিল, ২০২৬ পর্যন্ত)। |
| মোট প্রশিক্ষণার্থী | ২০০ জন (প্রতি কেন্দ্রে ৪০ জন)। |
| প্রশিক্ষণ কেন্দ্রসমূহ | গাজীপুর (একাডেমি), খুলনা, চট্টগ্রাম, বগুড়া ও রংপুর। |
| সহযোগী প্রতিষ্ঠান | স্কিল আপ (Skill Up)। |
| বিশেষ সুবিধা | কল্যাণ ট্রাস্ট থেকে উচ্চতর পরীক্ষার ফি প্রদান। |
মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ বলেন, “আনসার-ভিডিপি কেবল একটি শৃঙ্খলা বাহিনী নয়, এটি প্রায় ৬০ লাখ সদস্যের একটি বিশাল পরিবার। এই বাহিনীর সদস্যদের পরিবারের প্রায় ৩ কোটি মানুষের আর্থ-সামাজিক অবস্থার পরিবর্তনে ধাপে ধাপে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা আমাদের অন্যতম প্রধান কৌশলগত লক্ষ্য।” জাপানি ভাষায় দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে এই সদস্যরা জাপানের মতো উন্নত দেশে দক্ষ কর্মী হিসেবে নিজেদের অবস্থান সুসংহত করতে পারবেন, যা দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এই মহতী উদ্যোগটি সফল করতে গত ১৫ জানুয়ারি আনসার-ভিডিপি সদর দপ্তরে বিশ্বস্ত দক্ষতা উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান ‘স্কিল আপ’-এর সাথে একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়। ‘স্কিল আপ’ মূলত বৈশ্বিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে একটি বিশেষজ্ঞ প্রতিষ্ঠান। তাদের দক্ষ প্রশিক্ষকদের মাধ্যমেই পাঁচটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে একযোগে এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রাথমিক ভাষা শিক্ষা শেষে যারা উচ্চতর সার্টিফিকেশন (যেমন- JLPT বা NAT) অর্জন করতে চাইবেন, তাঁদের পরীক্ষার ফি আনসার-ভিডিপি কল্যাণ ট্রাস্ট থেকে প্রদান করা হবে।
বর্তমানে আনসার-ভিডিপি একাডেমি (গাজীপুর), খুলনা, চট্টগ্রাম, বগুড়া ও রংপুরের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে মোট ২০০ জন চৌকস সদস্য এই সুযোগ পাচ্ছেন। সফলভাবে কোর্স সম্পন্নকারীদের জন্য জাপানের বিভিন্ন খাতে কর্মসংস্থানের দুয়ার খুলে যাবে। বিশেষ করে কেয়ার-গিভার, কনস্ট্রাকশন ও কৃষি খাতে জাপানি ভাষার দক্ষ কর্মীর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। সরকার আশা করছে, এই প্রকল্পের মাধ্যমে বাহিনীর সদস্যরা কেবল নিজেদের ভাগ্যই পরিবর্তন করবেন না, বরং বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের সুনাম ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি বৃদ্ধি করবেন।
আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর এই উদ্যোগটি দক্ষ মানবসম্পদ রপ্তানির ক্ষেত্রে একটি রোল মডেল হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। সামরিক শৃঙ্খলার পাশাপাশি ভাষাগত দক্ষতা যুক্ত হলে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বহুগুণ বেড়ে যাবে। আধুনিক প্রশিক্ষণ ও আর্থিক সহায়তার এই সমন্বয় আনসার-ভিডিপির সাধারণ সদস্যদের স্বপ্ন পূরণে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করল।