খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 3শে ভাদ্র ১৪৩২ | ১৮ই আগস্ট ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
সম্প্রতি ভারতের হায়দরাবাদে চার বাংলাদেশি নারী ও কিশোরীকে উদ্ধার করেছে স্থানীয় পুলিশ। তাদের অবৈধভাবে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতে আনা হয়েছিল এবং পরে পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করা হয়।
সোমবার দেশটির গণমাধ্যম তেলেঙ্গানা টুডে জানিয়েছে, একের পর এক নারী ও কিশোরী উদ্ধারের ঘটনায় সংঘবদ্ধ মানবপাচারকারী চক্রের খোঁজ পাচ্ছে পুলিশ। এই চক্রের সদস্যরা ভারতের বিভিন্ন এলাকার পতিতালয়ের সঙ্গে জড়িত। তারা দরিদ্র পরিবারের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে নারী ও কিশোরীদের ভারতে পাচার করে।
সবশেষ উদ্ধার হওয়া চার বাংলাদেশি নারী ও কিশোরীকে পাওয়া গেছে হায়দরাবাদের খয়রাতবাদ, চাঁদেরঘাট ও বান্দলাগুড়া এলাকার পতিতালয় থেকে। এসব এলাকার পতিতালয় থেকে বাংলাদেশি নারী উদ্ধারের ঘটনা নতুন নয়। ২০০০ সালের শুরু থেকে পুলিশ বহু নারীকে উদ্ধার করেছে। এসব পতিতালয়ের সঙ্গে যুক্তরা বাংলাদেশ ছাড়াও উজবেকিস্তান, রাশিয়া, ইউক্রেন, শ্রীলঙ্কা ও নেপাল থেকেও নারী পাচার করে।
বাংলাদেশ প্রসঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক কর্মকর্তা বলেন, ভুক্তভোগীরা দালালের মাধ্যমে সাগর ও স্থলপথে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করে। মানবপাচারে জড়িত বাংলাদেশি ও ভারতীয় চক্র শক্তিশালী। তারা দালালদের অর্থ দিয়ে এসব কার্যক্রম চালায়।
ভারতে আনার আগে নারীদের চাকরি ও ভালো বেতনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। কর্মকর্তারা জানান, বাংলাদেশের কিছু অঞ্চলের মানুষ অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল। এই সুযোগে দালালরা নারী ও কিশোরীদের ভালো জীবনের স্বপ্ন দেখিয়ে ভারতে নিয়ে যায়। পরে তাদের জন্য স্থানীয় পরিচয়পত্র তৈরি করে অন্য শহরে পাঠানো হয়।
পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, অভাবের কারণে অনেক নারী-পুরুষ ও শিশু অবৈধভাবে ভারতে আসে। ধরা পড়ার আগ পর্যন্ত তারা বাঙালি পরিচয়ে কাজ করে।
ভারতের সেন্ট্রাল ওয়েলফেয়ার বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ভারতে পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য হওয়া ভুক্তভোগীদের মধ্যে ২ দশমিক ৭ শতাংশ বাংলাদেশি। পাচারের পর তাদের কলকাতা, দিল্লি, হায়দরাবাদ ও মুম্বাইয়ের দালালদের কাছে বিক্রি করা হয়। হায়দরাবাদের পতিতালয়গুলো মূলত আত্তাপুর, বান্দলাগুড়া, চিন্তালমেট, হিমায়তসাগর রোড ও চাম্পাপেট এলাকা থেকে পরিচালিত হয়।
খবরওয়ালা/টিএসএন