খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২২ জুন ২০২৬
ভারতের উত্তর প্রদেশ রাজ্যের রাজধানী লখনউয়ের একটি বাণিজ্যিক ভবনে অবস্থিত কোচিং সেন্টারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় এ পর্যন্ত অন্তত ১৩ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। সোমবার (২২ জুন) উত্তর-পশ্চিম লখনউয়ের আলীগঞ্জ এলাকার একটি বহুতল বাণিজ্যিক ভবনে এই অগ্নিকাণ্ড ঘটে। আগুন থেকে জীবন বাঁচাতে ভবনটির ওপরের তলা থেকে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী নিচে লাফিয়ে পড়েন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।
ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রের বরাতে জানা গেছে, আলীগঞ্জ এলাকার ওই তিন তলাবিশিষ্ট বাণিজ্যিক ভবনটির ওপরের তলায় প্রথমে আগুনের সূত্রপাত হয়। শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) বা বৈদ্যুতিক গোলযোগ থেকে আগুন লেগেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। মুহূর্তের মধ্যে সেই আগুন তীব্র আকার ধারণ করে পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। ভবনটির প্রথম তলায় একটি শিক্ষামূলক কোচিং সেন্টার পরিচালিত হচ্ছিল, যেখানে ঘটনার সময় বহু শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছিল। এছাড়া ভবনটির নিচের তলাগুলোতে একটি পোষা প্রাণীর দোকানসহ (পেট শপ) অন্যান্য বাণিজ্যিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। ভবনে আগুন লাগার পর পরই ভেতরে থাকা শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেকেই ধোঁয়ার কারণে ভেতরে আটকা পড়েন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই ঘটনার একটি ভিডিও চিত্রে দেখা গেছে, ভবনের ভেতরে আগুন ও ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়লে এক ব্যক্তি ভবনের একটি ভাঙা জানালা দিয়ে বাইরে বের হওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করছেন। তিনি ভবনের কার্নিশ ধরে ঝুলে থাকার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নিচে একটি লোহার বেড়ার ওপর পড়ে যান। পরে স্থানীয় লোকজন গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান, যেখানে বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এক প্রত্যক্ষদর্শী সংবাদমাধ্যমকে জানান, আগুন লাগার পর ভবনের সিঁড়ি ধোঁয়ায় অন্ধকার হয়ে যাওয়ায় হুড়োহুড়ি শুরু হয়ে যায়। জীবন বাঁচাতে অন্তত পাঁচ থেকে সাতজন শিক্ষার্থী ওপর থেকে নিচে লাফ দেন, যার মধ্যে একজনের হাত-পা ভেঙে গেছে।
অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে লখনউ পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের বেশ কয়েকটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। উদ্ধারকারী দল প্রায় এক ঘণ্টার নিরবচ্ছিন্ন চেষ্টার পর ভবনের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। আগুন পুরোপুরি নেভানোর পর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ওই বহুতল ভবনের ভেতর তল্লাশি চালিয়ে একে একে ১৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করেন। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে উত্তর প্রদেশের উপ-মুখ্যমন্ত্রী ব্রজেশ পাঠক উদ্ধারকাজ সরাসরি পরিদর্শনে ঘটনাস্থলে যান এবং উদ্ধারকারীদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।
এই মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বার্তায় তিনি নিহতদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং দুর্ঘটনায় আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় ত্রাণ তহবিল (পিএমএনআরএফ) থেকে এই দুর্ঘটনায় নিহতদের প্রত্যেক পরিবারকে ২ লাখ রুপি এবং আহতদের চিকিৎসার জন্য ৫০ হাজার রুপি করে জরুরি আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথও এই দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি লখনউ জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সব ধরনের জরুরি চিকিৎসা ও প্রশাসনিক সহায়তা প্রদানের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। লখনউ পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং ভবনের অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থার কোনো ঘাটতি ছিল কিনা তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।