খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৫ই আগস্ট ২০২৬, ৯:৫৬ পিএম
ভারতে মস্তিষ্কে প্রদাহ সৃষ্টিকারী মারাত্মক ‘চন্দিপুরা’ ভাইরাসের আক্রমণে অন্তত ২২টি শিশুর করুণ মৃত্যু হয়েছে। পরিস্থিতি ক্রমশ আশঙ্কাজনক রূপ নেওয়ায় মহামারি সামাল দিতে গুজরাট ও রাজস্থানে বিশেষ ন্যাশনাল রেসপন্স টিম (এনআরটি) মোতায়েন করেছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার।
ভারতের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তরফ থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত এই বিশেষ টিম স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হয়ে কাজ শুরু করেছে। আক্রান্ত রোগীদের দ্রুত ও সঠিক চিকিৎসা প্রদান, ভাইরাসের উৎস নিয়ন্ত্রণ এবং সামগ্রিক জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা জোরদার করাই এই টিমের মূল লক্ষ্য।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এই পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছে, মূলত বর্ষা মৌসুমে চন্দিপুরা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যায়। বালুমাছি (স্যান্ডফ্লাই), সাধারণ মশা এবং অন্যান্য বাহক পোকামাকড়ের কামড়ের মাধ্যমেই এই ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটে। এটি মূলত শিশুদের আক্রান্ত করে এবং এদের শরীরে প্রবেশ করে অতি দ্রুত মস্তিষ্কে মারাত্মক প্রদাহ বা এনসেফালাইটিস সৃষ্টি করে। সময়মতো চিকিৎসা না পেলে এই ব্যাধি অল্প সময়ের মধ্যেই প্রাণঘাতী রূপ ধারণ করে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ ভাইরাসের সবচেয়ে ভয়াবহ প্রভাব পড়েছে গুজরাট রাজ্যে। গুজরাটের স্বাস্থ্যমন্ত্রী প্রফুল পানশেরিয়া স্থানীয় পরিস্থিতির বিবরণ দিয়ে জানান, এ পর্যন্ত সন্দেহভাজন ১৮৪ জন রোগীর রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর এর মধ্যে ৩৫ জনের শরীরে চন্দিপুরা ভাইরাসের নিশ্চিত উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের অধিকাংশই শিশু। অন্যদিকে গত মাসে পার্শ্ববর্তী রাজ্য রাজস্থানেও এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দুজন শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, যা নতুন করে উৎকণ্ঠা বাড়িয়ে দিয়েছে।
ভাইরাসটির বিস্তার রোধে রাজ্য দুটির আক্রান্ত এলাকাগুলোতে নজরদারি কয়েক গুণ বাড়ানো হয়েছে। দ্রুত রোগী শনাক্ত করা, আক্রান্ত স্থানগুলোতে মশা ও বাহক পোকা দমনে রাসায়নিক স্প্রে করা এবং গ্রামীণ এলাকাগুলোতে জনসচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা অভিভাবকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে জানিয়েছেন, কোনো শিশুর মধ্যে হঠাৎ তীব্র জ্বর, ক্রমাগত খিঁচুনি, প্রচণ্ড মাথাব্যথা বা মানসিক বিভ্রান্তির মতো স্নায়বিক জটিলতা দেখা দিলে বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট না করে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। বর্ষার দিনে শিশুদের মশারির নিচে রাখা ও বাহক পোকার কামড় থেকে সুরক্ষিত রাখার ওপর জোর দিচ্ছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা।
মন্তব্য