খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 7শে পৌষ ১৪৩২ | ২১ই ডিসেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ভারতের বিশেষ তদন্ত দল (SIT) এবং আদালতের নজরে এসেছে এই সফরের আয়-ব্যয় ও নিরাপত্তা লঙ্ঘন। তথ্য অনুসারে, মেসি একাই এই সফরের জন্য পেয়েছেন ৮৯ কোটি রুপি। পুরো সফরের খরচ দাঁড়িয়েছে ১০০ কোটি রুপি। কলকাতার অনুষ্ঠানের মূল আয়োজক শতদ্রু দত্তের জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য সামনে এসেছে।
| খরচ / আয় | পরিমাণ (₹ কোটি) | মন্তব্য |
|---|---|---|
| মেসির পারিশ্রমিক | ৮৯ | এককভাবে মেসিকে প্রদত্ত |
| সরকারী কর | ১১ | আয়কর হিসেবে প্রদত্ত |
| মোট খরচ | ১০০ | পুরো সফরের জন্য |
| ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জব্দ | ২০+ | টিকিট বিক্রি ও স্পনসর থেকে পাওয়া |
শতদ্রু দত্ত জানিয়েছেন, মেসিকে প্রদত্ত অর্থের ৩০% এসেছে স্পনসর থেকে এবং ৩০% এসেছে টিকিট বিক্রয় থেকে। SIT কর্মকর্তা বর্তমানে এই দাবিগুলো যাচাই করছেন।
১৩ ডিসেম্বর, মেসিকে এক ঝলক দেখার জন্য হাজার হাজার দর্শক সল্টলেক স্টেডিয়ামে সমবেত হন। কিন্তু মেসি মাঠে নামার পরই ভিড় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। ৭০–৮০ জন দর্শক মেসিকে ঘিরে ধরায় গ্যালারি থেকে তাঁকে দেখা প্রায় অসম্ভব হয়ে যায়। হতাশা ও উত্তেজনার কারণে শুরু হয় ভাঙচুর, লুটপাট এবং পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা।
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও স্টেডিয়ামে যাওয়ার পথে মাঝপথে ফিরে যেতে বাধ্য হন। ঘটনার পর শতদ্রু দত্তকে হায়দরাবাদ যাওয়ার পথে বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং ১৪ ডিসেম্বর ১৪ দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠানো হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে শতদ্রু জানিয়েছেন, মেসি মাঠে ঢোকার পর জড়ানো বা ছোঁয়াচ্ছুতে অসন্তুষ্ট ছিলেন। বিদেশি নিরাপত্তা কর্মকর্তারা আগেই জানিয়েছিলেন, মেসির কাছে অনধিকার প্রবেশ বা ছোঁয়াচ্ছু নিরাপত্তার জন্য হুমকি। কিন্তু বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তির হস্তক্ষেপে নিয়ম ভেঙে স্টেডিয়ামে প্রবেশাধিকারের সংখ্যা তিন গুণ বেড়ে যায়।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে পশ্চিমবঙ্গের ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস ক্রীড়ামন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। তদন্তকারীরা এখন খতিয়ে দেখছেন কীভাবে এত বিপুলসংখ্যক মানুষ নিরাপত্তা ব্যবস্থার বাইরেই মাঠে প্রবেশ করতে সক্ষম হয়েছিল।