মহেশখালীতে কমছে এলএনজির মজুত, কার্গোর অপেক্ষায় জাতীয় গ্যাস গ্রিড

কক্সবাজারের মহেশখালীতে অবস্থিত দেশের দুটি ভাসমান তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনালে দেখা দিয়েছে তীব্র এলএনজি সংকট। এর ফলে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। যেখানে এই দুই টার্মিনালের দৈনিক সম্মিলিত গ্যাস সরবরাহ সক্ষমতা ১১০ কোটি ঘনফুট, সেখানে মঙ্গলবার জাতীয় গ্রিডে গেছে মাত্র ৬৬ কোটি ঘনফুট। বিশেষ করে একটি টার্মিনালে এলএনজির মজুত আশঙ্কাজনকভাবে কমে আসায় এবং চট্টগ্রাম বন্দরে নতুন কোনো কার্গো জাহাজ না থাকায় বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে।
সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়ছে দেশের তৈরি পোশাকসহ ভারী উৎপাদনমুখী শিল্পকারখানা, সিএনজি ফিলিং স্টেশন এবং আবাসিক বাসাবাড়ির গ্রাহকদের ওপর। অনেক এলাকায় গ্যাসের চাপ নেমে গেছে একেবারে শূন্যের কোঠায়, ফলে কারখানাগুলোতে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক উৎপাদন। পরিস্থিতি কবে নাগাদ পূর্ণ স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট বার্তা দিতে পারছেন না পেট্রোবাংলা বা সংশ্লিষ্ট সংস্থার কর্মকর্তারা।
মহেশখালীতে অবস্থিত দুটি ভাসমান টার্মিনালের একটি পরিচালনা করছে মার্কিন প্রতিষ্ঠান এক্সিলারেট এনার্জি এবং অন্যটি পরিচালনা করছে দেশীয় বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সামিট গ্রুপ। দুটি টার্মিনাল থেকেই আমদানিকৃত এলএনজি পুনরায় গ্যাসে রূপান্তর করে জাতীয় গ্রিডে পাঠানো হয়।
বর্তমানে মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান টার্মিনালে মজুত প্রায় ফুরিয়ে এসেছে। রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (আরপিজিসিএল) সূত্রে জানা যায়, সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ‘সৌদি আরামকো’র সঙ্গে স্বল্পমেয়াদি চুক্তির আওতায় একটি এলএনজিবাহী কার্গো জাহাজ দেশে এসেছিল। তবে কার্গোটি থেকে টার্মিনালে গ্যাস স্থানান্তরে বড় ধরনের নিরাপত্তার ঝুঁকি রয়েছে—এমন কারণ দেখিয়ে সেটি গ্রহণে অস্বীকৃতি জানায় এক্সিলারেট এনার্জি। ফলে কোনো গ্যাস খালাস না করেই জাহাজটি ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
আরপিজিসিএলের এলএনজি ডিভিশনের (কক্সবাজার) ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ ইমতিয়াজ কামাল চৌধুরী জানান, দুটি টার্মিনাল থেকে বর্তমানে মাত্র ৬৬০ মিলিয়ন (৬৬ কোটি) ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে মিলছে। এর মধ্যে সামিটের টার্মিনাল দিচ্ছে ৫৫০ মিলিয়ন ঘনফুট এবং মজুত সংকটে থাকা এক্সিলারেট এনার্জি দিচ্ছে মাত্র ১১০ মিলিয়ন ঘনফুট। দুটি টার্মিনাল মিলে তাদের সর্বোচ্চ সক্ষমতার চেয়ে দৈনিক ৪৪০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস কম সরবরাহ করছে।
তবে এই সংকট থেকে সাময়িক নিস্তারের পথ দেখছে কর্তৃপক্ষ। আরপিজিসিএলের এলএনজি ডিভিশনের (চট্টগ্রাম) ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ মঈন উদ্দীন চৌধুরী জানিয়েছেন, ২০ আগস্ট এলএনজি নিয়ে একটি নতুন কার্গো জাহাজ দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। সেই জাহাজ থেকে এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালে গ্যাস স্থানান্তর করা সম্ভব হলে সরবরাহ আবার স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরবে।
সাম্প্রতিক সময়ে মহেশখালীর এই টার্মিনাল দুটি বার বার নানা জটিলতায় পড়েছে। গত ২১ জুলাই কারিগরি ত্রুটির কারণে এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনাল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়, যা অনেক মেরামতের পর ৫ আগস্ট রাতে আংশিক চালু করা সম্ভব হয়। এর মধ্যে আবার কার্গো ভেড়াতে না পেরে গত সপ্তাহে সামিটের টার্মিনাল থেকেও সাময়িকভাবে সরবরাহ বন্ধ থাকে। একদিকে কারিগরি ত্রুটি, অন্যদিকে ঝুঁকিপূর্ণ আখ্যা দিয়ে কার্গো ফেরত পাঠানো—সব মিলিয়ে দেশের জ্বালানি খাতে বড় ধরনের টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। দ্রুত গ্যাস খালাস করা সম্ভব না হলে সামনের দিনগুলোতে বাসাবাড়ি ও শিল্প খাতের এই সংকট আরও মারাত্মক রূপ নিতে পারে।
Tags :

Shakib

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বশেষ খবর