খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 28শে মাঘ ১৪৩১ | ১০ই ফেব্রুয়ারি ২০২৫ | 1149 Dhu al-Hijjah 5
খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক: বাংলাদেশ দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উচ্চপদস্থ এক কর্মকর্তারা বলেছেন, টিউলিপ সিদ্দিকীর খালা স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার শাসনামলে চুরি হওয়া অর্থ ফেরত আনতে ‘সক্রিয়ভাবে কাজ করছে’ দুদক। শেখ পরিবারের অর্থ কেলেঙ্কারির অনুসন্ধানে একাধিক দেশের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন বলে জানিয়েছেন দুদকের মহাপরিচালক আখতার হোসেন।
রবিবার (৯ ফেব্রুয়ারি) ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ এর প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়েছে।
ব্রিটেনে সিটি মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে টিউলিপ ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর নৈতিকতা উপদেষ্টা স্যার লরি ম্যাগনাসের অনুসন্ধানের পর তিনি পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত একজন ব্যক্তির দেওয়া একটি ফ্ল্যাটের মালিকানা সম্পর্কে তিনি অস্পষ্ট তথ্য দিয়েছিলেন।
শেখ হাসিনা দীর্ঘ সময় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। গত আগস্টে পদচ্যুত হওয়ার পর এখন ভারতে রয়েছেন। এসময় বিক্ষোভে দেড় হাজার মানুষ নিহত হয়েয়ে। তার মেয়াদকালে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, বিরোধীদের আক্রমণ, গ্রেপ্তার এবং গুম করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছিল।
দুদক শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি তদন্ত শুরু হয়েছে, যেখানে টিউলিপের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তারমধ্যে পারমাণবিক বিদ্যুৎ চুক্তি থেকে ৪ বিলিয়ন পাউন্ড অর্থ আত্মসাতের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ করা হয়েছে।
দ্য টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেখ পরিবারের দুর্নীতির তদন্তের অংশ হিসেবে দুদকের অনুসন্ধানকারী টিম ১০ থেকে ১২টি দেশের কাছ থেকে তথ্য চেয়েছেন। তবে টিউলিপের বিষয়ে তদন্তের জন্য কোন দেশগুলির সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে তা এখনও স্পষ্টভাবে জানা যায়নি।
দুদকের এক মুখপাত্র বলেছেন, ‘আমাদের টিমগুলো বিদেশে চুরি হওয়া তহবিল পুনরুদ্ধারের জন্য কাজ করছে। আমরা যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং অন্যান্য দেশের সহায়তার আশ্বাস পেয়েছি।’
এদিকে জানুয়ারির শেষের দিকে ব্রিটেনের ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সির কর্মকর্তারা দুদক তদন্তকারীদের তাদের তদন্তে সহায়তা করার জন্য কয়েকদিন ধরে ঢাকায় কাটিয়েছেন।
গতকাল কথা বলার সময় মি. হোসেন বলেছিলেন, দুদক এখনও টিউলিপ সিদ্দিকের অভিযুক্ত জড়িত থাকার তদন্ত করছে এবং বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটকে একটি প্রতিবেদন পাঠাতে বলেছে।
‘আমরা এখনও যুক্তরাজ্য এবং অন্যান্য দেশ সহ বিদেশি উত্স থেকে প্রমাণ সংগ্রহ করছি। প্রাথমিক প্রতিবেদনগুলি ইঙ্গিত দেয় যে পাচার করা অর্থ শুধু যুক্তরাজ্যে নয়, একাধিক গন্তব্যে স্থানান্তরিত হয়েছে,’ তিনি বলেছিলেন।
‘আমরা সঠিক চ্যানেলের মাধ্যমে পারস্পরিক আইনি সহায়তা অনুরোধ পাঠানোর চেষ্টা করছি। তাই বিদেশ এবং অন্যান্য উৎস থেকে সাহায্য পাওয়ার পরে, আমাদের টিম সিদ্ধান্ত নেবে যে তারা কীভাবে এগিয়ে যাবে।’
বাংলাদেশের তদন্তকারীদের ব্রিটেনের ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি সহায়তা করেছে এবং অক্টোবরে ঢাকায় সফর করেছে।
মি. হোসেন ইঙ্গিত দিয়ে জানান, এটির আইনি ব্যবস্থা নিবেন অথবা যুক্তরাজ্যে পাচার করা অর্থ পুনরুদ্ধারের জন্য কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সাহায্য চাইবে।
‘ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং যুক্তরাজ্যসহ একাধিক দেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলি পাচার করা অর্থ পুনরুদ্ধারে তাদের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে,’ তিনি বলেন।
‘এই বিষয়ে ইতোমধ্যেই বেশ কয়েকটি বৈঠক হয়েছে, এবং অনুসন্ধানী দল আইনি পদ্ধতির মাধ্যমে অর্থ ফেরত আনতে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।’
তবে টিউলিপ সিদ্দিকের একজন মুখপাত্র বলেছেন, ‘এই অভিযোগের জন্য কোন প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। টিউলিপ সিদ্দিক এই বিষয়ে কারো সাথে যোগাযোগ করেননি এবং দাবিগুলি সম্পূর্ণরূপে অস্বীকার করেছেন।’
খবরওয়ালা/জেআর