খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬
ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলায় বজ্রপাতে এক গৃহবধূর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার মান্দারবাড়িয়া ইউনিয়নের বাথানগাছি গ্রামে এই দুর্ঘটনা ঘটে। আকস্মিক এই ঘটনায় পুরো এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহত গৃহবধূর নাম রোজিনা খাতুন (বয়স ৩৫)। তিনি বাথানগাছি গ্রামের বাসিন্দা মিজানুর রহমানের স্ত্রী ছিলেন। পারিবারিক সূত্র ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় তিনি নিজ বাড়িতে দৈনন্দিন রান্নার কাজ করছিলেন। দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে হঠাৎ বজ্রসহ বৃষ্টিপাত শুরু হয় এবং ঠিক সেই মুহূর্তেই বজ্রপাতের শিকার হন তিনি। এতে তিনি ঘটনাস্থলেই গুরুতরভাবে আহত হন এবং অচেতন হয়ে পড়েন।
পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে মহেশপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তবে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকদের মতে, হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছিল।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বজ্রপাতের শব্দ অত্যন্ত তীব্র ছিল এবং মুহূর্তের মধ্যেই এই দুর্ঘটনা ঘটে যায়। ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার পর স্বজন ও প্রতিবেশীদের মধ্যে শোকের আবহ তৈরি হয়। অনেকেই বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা জানান।
ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য হুমায়ুন কবির ঘটনাটি নিশ্চিত করে বলেন, তিনি খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলের বিষয়ে খোঁজ নেন এবং পরে নিশ্চিত হন যে বজ্রপাতে ওই গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। তিনি আরও জানান, এ ধরনের আকস্মিক প্রাকৃতিক দুর্যোগে গ্রামীণ এলাকায় প্রায়ই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।
মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মেহেদী হাসান জানান, এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের অভিযোগ না থাকায় প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
স্থানীয়ভাবে বজ্রপাতকে একটি মারাত্মক প্রাকৃতিক ঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করা হয়, বিশেষ করে বর্ষা ও প্রাক-বর্ষা মৌসুমে। সাধারণত খোলা জায়গা, কাঁচা বাড়ি এবং বৈদ্যুতিক নিরাপত্তাহীন পরিবেশে বজ্রপাতের ঝুঁকি আরও বেশি থাকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বজ্রপাতের সময় ঘরের ভেতরে থাকা এবং ধাতব বস্তু থেকে দূরে থাকা জীবন রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিচে উপস্থাপন করা হলো—
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| নিহত ব্যক্তির নাম | রোজিনা খাতুন |
| বয়স | ৩৫ বছর |
| স্বামী | মিজানুর রহমান |
| স্থান | বাথানগাছি গ্রাম, মান্দারবাড়িয়া ইউনিয়ন |
| উপজেলা | মহেশপুর |
| জেলা | ঝিনাইদহ |
| ঘটনার সময় | বৃহস্পতিবার, দুপুর আনুমানিক ১টা |
| কারণ | বজ্রপাত |
| চিকিৎসা অবস্থা | হাসপাতালে নেওয়ার পর মৃত ঘোষণা |
এ ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেতে স্থানীয় প্রশাসন ও সচেতন মহল সাধারণ মানুষকে বজ্রপাতের সময় নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পরামর্শ দিয়ে থাকে। বিশেষ করে খোলা মাঠে কাজ করা কৃষক ও গৃহস্থালির কাজে বাইরে থাকা নারীদের জন্য এ সময়টি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করা হয়।
এই মর্মান্তিক ঘটনার পর এলাকাবাসী দ্রুত কার্যকর সতর্কতা ব্যবস্থা ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে এমন প্রাণহানির ঘটনা কমে আসে।