খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬
সাধারণত ক্রিকেট মাঠে কোনো খেলোয়াড়ের প্রভাব মাপা হয় তার ঝুলিতে জমা হওয়া রান কিংবা উইকেটের সংখ্যা দিয়ে। তবে স্কোরকার্ডের এই পরিচিত অঙ্কের বাইরে গিয়ে ক্রিকেটারদের মানসিকতা, প্রচেষ্টা এবং শৃঙ্খলাকে বিশেষভাবে সম্মান জানানোর এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে ভারতীয় দল। জিম্বাবুয়ে সফরে ভারতীয় ক্রিকেট দলের অন্তর্বর্তিকালীন প্রধান কোচ ভিভিএস লক্ষ্মণ ড্রেসিংরুমে ‘বেস্ট অ্যাটিটিউড অ্যাওয়ার্ড’ বা সেরা আচরণের পুরস্কার চালু করেছেন।
অনেক সময় দেখা যায়, একজন খেলোয়াড় মাঠে এমন কিছু সূক্ষ্ম অবদান রাখেন যা সরাসরি পরিসংখ্যান বা স্কোরকার্ডে দৃশ্যমান হয় না। উদাহরণস্বরূপ, কঠিন সময়ে বাউন্ডারি লাইনে দুর্দান্ত ফিল্ডিং করে রান বাঁচানো, দলের প্রয়োজনে যেকোনো পজিশনে ব্যাটিং করতে নামা কিংবা অনুশীলনে অতিরিক্ত সময় দিয়ে নিজেকে প্রস্তুত রাখা। ভিভিএস লক্ষ্মণ মূলত সেই অদৃশ্যের অবদানগুলোকে সামনে আনতেই এই পুরস্কারের পরিকল্পনা করেছেন।
এই নতুন উদ্যোগের অধীনে প্রথম ম্যাচ শেষেই পুরস্কৃত হয়েছেন তরুণ টপ-অর্ডার ব্যাটার তিলক ভার্মা। সিরিজের প্রথম ম্যাচে তার পরিসংখ্যান হয়তো খুব বেশি চোখধাঁধানো ছিল না—তিনি একটি ক্যাচ ধরেছেন, একটি চার মেরেছেন এবং শেষে জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় রানটি করেছেন। আপাতদৃষ্টিতে এটি খুব সাধারণ এক পারফরম্যান্স মনে হলেও, মাঠের ভেতরে তার ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি এবং দলের জন্য নিবেদিত মানসিকতাই তাকে এই পুরস্কারের যোগ্য করে তুলেছে।
খেলোয়াড়দের মানসিকতা কেন রান বা উইকেটের মতোই গুরুত্বপূর্ণ, তা পরিষ্কার করেছেন অন্তর্বর্তিকালীন প্রধান কোচ নিজেই। লক্ষ্মণ জানান, যেকোনো ম্যাচ জেতার পেছনে শুধু শারীরিক দক্ষতা বা স্কিল যথেষ্ট নয়; মাঠে একজন ক্রিকেটারের মানসিক মনোভাবও সমান ভূমিকা রাখে। সে কারণেই টিম ম্যানেজমেন্ট সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, এই সিরিজে শুধু ব্যাটিং, বোলিং বা ফিল্ডিংয়ের মতো চিরাচরিত পারফরম্যান্সকে পুরস্কৃত না করে ইতিবাচক মনোভাব ও শৃঙ্খলাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
পুরস্কারের সঠিক দাবিদার বেছে নেওয়ার দায়িত্ব অবশ্য কোচের হাতে একা থাকছে না। টিম ম্যানেজমেন্টের সাপোর্ট স্টাফরা যৌথভাবে এই সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। চলমান সিরিজে এই পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করছেন দলের স্ট্রেংথ অ্যান্ড কন্ডিশনিং কোচ হর্ষ এবং পারফরম্যান্স কোচ জয়। তারা প্রতিটি অনুশীলনে এবং মূল ম্যাচের সময় খেলোয়াড়দের নিবেদন ও কাজের প্রতি একাগ্রতা মেপে দেখছেন।
তিলক ভার্মার মাঠের ভেতরের ও বাইরের পরিশ্রমের প্রশংসা করতে গিয়ে হর্ষ জানান, এই তরুণ ক্রিকেটার শুধু ম্যাচের সময় নয়, অনুশীলনের সময়ও সমান মনোযোগী থাকেন। যখন হয়তো কঠোর শারীরিক খাটাখাটনির খুব বেশি বাধ্যবাধকতা থাকে না, তখনও তিলক পূর্ণ মনোযোগ ও ক্ষিপ্রতার সাথে নিজের কাজটি করে যান। অনুশীলনের এই সুঅভ্যাস তাকে মানসিকভাবে শক্তিশালী করে তুলছে।
এমন একটি সম্মান পেয়ে বেশ উচ্ছ্বসিত তিলক ভার্মা। তিনি জানান, দেশের হয়ে খেলার সময় নিজের সেরাটা দেওয়ার মানসিকতা তিনি সব সময় ধরে রাখার চেষ্টা করেন। ড্রেসিংরুমের বাইরের প্রস্তুতি ও সুশৃঙ্খল জীবনযাপনই তাকে মূল ম্যাচে কঠিন পরিস্থিতি সামলাতে সাহায্য করে। ভারতীয় ক্রিকেট দলে প্রবর্তিত এই সংস্কৃতি তরুণ ক্রিকেটারদের কেবল রান সংগ্রাহক নয়, বরং দলের প্রকৃত নিবেদিত সদস্য হতে অনুপ্রাণিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।