খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বগুড়ার ধুনট উপজেলায় মাদকাসক্তির এক চরম ও নৃশংস চিত্র ফুটে উঠেছে। নেশার টাকার জোগান না পেয়ে নিজের জন্মদাতা পিতা এবং অবুঝ শিশুপুত্রকে হত্যার চেষ্টার মতো জঘন্য অপরাধে লিপ্ত হওয়া রাজু মিয়া (২৩) নামক এক যুবককে কারাদণ্ড প্রদান করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে এই দণ্ডাদেশ কার্যকর করা হয়, যা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
দণ্ডপ্রাপ্ত রাজু মিয়া উপজেলার গোপালনগর ইউনিয়নের বাঁশপাতা গ্রামের বেলাল হোসেনের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজু দীর্ঘদিন ধরে মরণঘাতী মাদকদ্রব্যে আসক্ত। মাদকের ভয়াবহ নেশায় তার হিতাহিত জ্ঞান লোপ পেয়েছিল। নেশার টাকা জোগাড় করতে তিনি প্রতিনিয়ত তার বাবার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতেন। পারিবারিক কলহ এবং রাজুর এমন সহিংস আচরণের কারণে অসহায় হয়ে তার স্ত্রী মাত্র ছয় মাস আগে কোলের শিশুকে রেখে বাবার বাড়িতে চলে যেতে বাধ্য হন। কিন্তু স্ত্রীর প্রস্থানও রাজুর আচরণে কোনো পরিবর্তন আনতে পারেনি। বরং দিন দিন তার নির্যাতনের মাত্রা আরও বৃদ্ধি পেতে থাকে।
রাজু মিয়ার বাবা বেলাল হোসেন জানান, টাকার জন্য রাজু প্রায়ই তাকে মারধর করতেন। সর্বশেষ ঘটনায় তিনি কেবল আসবাবপত্র ভাঙচুর করেই ক্ষান্ত হননি, বরং নিজের শিশুপুত্র এবং বাবাকে হত্যার উদ্দেশ্য নিয়ে আক্রমণ করেন। পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা চরম ঝুঁকির মুখে পড়লে নিরুপায় বাবা বেলাল হোসেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
নিচে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া হলো:
| বিষয় | বিবরণ |
| দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি | রাজু মিয়া (২৩), পিতা: বেলাল হোসেন |
| অপরাধের প্রকৃতি | মাদক সেবন, পিতাকে মারধর, শিশুকে হত্যাচেষ্টা ও ভাঙচুর |
| আদালতের ধরন | ভ্রাম্যমাণ আদালত (Mobile Court) |
| পরিচালনাকারী ম্যাজিস্ট্রেট | খায়রুজ্জামান, সহকারী কমিশনার (ভূমি), ধুনট |
| দণ্ডাদেশ | ৯ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা জরিমানা |
| বর্তমান অবস্থান | বগুড়া জেলা কারাগার |
অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে স্থানীয় প্রশাসন রাজু মিয়ার ওপর বিশেষ নজরদারি শুরু করে। সোমবার দুপুরে ধুনট উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট খায়রুজ্জামানের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালতের একটি দল বাঁশপাতা গ্রামে রাজুর বাড়িতে অভিযান চালায়। অভিযানের সময় রাজুকে নিজ ঘরে ইয়াবা সেবনরত অবস্থায় হাতে-নাতে আটক করা হয়। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় তার অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাৎক্ষণিকভাবে তাকে ৯ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫০০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন। জরিমানার টাকা অনাদায়ে তাকে আরও কারাদণ্ড ভোগ করতে হতে পারে।
দণ্ডাদেশ প্রদানের পর সাজাপ্রাপ্ত রাজু মিয়াকে কঠোর পুলিশি পাহারায় বগুড়া জেলা কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। অভিযানের প্রধান সমন্বয়কারী ম্যাজিস্ট্রেট খায়রুজ্জামান সংবাদমাধ্যমকে জানান, মাদক কেবল একজন ব্যক্তিকে ধ্বংস করে না, বরং পুরো একটি পরিবার ও সমাজকে বিষিয়ে তোলে। তিনি আরও বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের এই জিরো টলারেন্স নীতি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।” একই সঙ্গে তিনি মাদক ও জুয়ার মতো সামাজিক ব্যাধি প্রতিরোধে সমাজের সচেতন নাগরিক ও অভিভাবকদের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
উপজেলা প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে এলাকার সাধারণ মানুষ। তাদের মতে, এমন দ্রুত বিচার ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা মাদকাসক্তদের মনে ভীতি সৃষ্টি করবে এবং বিপথগামী যুবকদের সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হবে।