খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২ই আগস্ট ২০২৬, ৪:৩৭ পিএম
দীর্ঘ নয় বছরের সম্পর্কের পর অবশেষে বিবাহের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা তারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ও তাঁর দীর্ঘদিনের সঙ্গী স্প্যানিশ-আর্জেন্টাইন মডেল জর্জিনা রদ্রিগেজ। আগামী শনিবার পর্তুগালের সৌন্দর্যমণ্ডিত মাদেইরা দ্বীপে জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে তাঁদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে। যুক্তরাজ্যের প্রভাবশালী পত্রিকা দ্য সান এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, ৪১ বছর বয়সী পর্তুগিজ ফরোয়ার্ড রোনালদো এবং ৩২ বছর বয়সী জর্জিনার বিয়ের মূল অনুষ্ঠানটি আয়োজিত হবে মাদেইরার রাজধানী ফুনচালের ঐতিহাসিক ক্যাথেড্রালে। স্থানীয় প্রথা ও ঐতিহ্য মেনে বেলা তিনটায় গির্জায় ধর্মীয় রীতিতে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। এর পরপরই আমন্ত্রিত অতিথি ও তারকাদের নিয়ে মূল সংবর্ধনা অনুষ্ঠানটির আয়োজন করা হয়েছে ফুনচালের সবচেয়ে বিলাসবহুল পাঁচ তারকা হোটেল ‘স্যাভয় প্যালেস’-এ।
এর আগে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে জোর গুঞ্জন উঠেছিল যে পর্তুগালের ঐতিহ্যবাহী সিন্ত্রা শহরের ঐতিহাসিক ‘কুইন্তা দা রেগালেইরা’ এস্টেটে বিয়ের আয়োজন করা হতে পারে। তবে স্থানীয় প্রশাসন জানায়, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী কুইন্তা দা রেগালেইরা সাধারণ দর্শনার্থী ও পর্যটকদের জন্য সম্পূর্ণ খোলা থাকবে। এই ঘোষণার পর সিন্ত্রায় বিয়ের সম্ভাবনা নাকচ হয়ে যায় এবং রোনালদোর নিজের জন্মভূমি মাদেইরাতেই চূড়ান্ত ভেন্যু নির্ধারিত হয়।
বিয়ের অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই চরম গোপনীয়তা ও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, স্যাভয় প্যালেস হোটেল কর্তৃপক্ষ তাদের আবাসিক অতিথিদের বিশেষ নোটিশের মাধ্যমে জানিয়ে দিয়েছে যে শুক্রবার ও শনিবার হোটেলের বিশেষ দুটি তলা এবং প্রাঙ্গণে থাকা কয়েকটি বার সাধারণ গ্রাহকদের জন্য সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে। ভিআইপি অতিথিদের সার্বিক নিরাপত্তা এবং মিডিয়ার ভিড় এড়াতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
ফুনচাল শহরটি কেবল একটি বিয়ের ভেন্যুই নয়, রোনালদোর জীবনের সাথে এটি গভীরভাবে জড়িয়ে রয়েছে। এই দ্বীপেই ফুটবলের এই মহাতারকার জন্ম ও শৈশব কেটেছে। অসচ্ছল পরিবারে বেড়ে ওঠা রোনালদো ছোটবেলায় ভাইবোনদের সঙ্গে একটিমাত্র ঘরে রাত কাটিয়েছেন। মাত্র ১১ বছর বয়সে ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন বুকে নিয়ে পরিবার ছেড়ে স্পোর্টিং লিসবনের একাডেমিতে পাড়ি জমান তিনি। আজ বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ধনী অ্যাথলেট হওয়া সত্ত্বেও জীবনের অন্যতম স্মৃতিময় দিনটির জন্য জন্মভূমিকেই বেছে নিয়েছেন রোনালদো, যা তাঁর মানসিক টান ও গভীর আবেগেরই বহিঃপ্রকাশ। বর্তমানে এই শহরে তাঁর একটি বিশাল ব্রোঞ্জের ভাস্কর্য এবং নিজস্ব মালিকানাধীন হোটেল রয়েছে।
সৌদি আরবের ক্লাব আল নাসরে খেলা রোনালদোর সাথে জর্জিনার প্রথম দেখা হয়েছিল ২০১৬ সালে। তখন জর্জিনা মাদ্রিদের একটি বিলাসবহুল ফ্যাশন ব্র্যান্ডের দোকানে বিক্রয়কর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। প্রথম দর্শনের সেই পরিচয় থেকে প্রেম এবং পরবর্তীতে দীর্ঘ যৌথ জীবন। গত বছরের আগস্টে জর্জিনাকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ের প্রস্তাব দেন রোনালদো। সম্প্রতি স্পেনের মায়োর্কা উপকূলে একটি ব্যক্তিগত ইয়টে ছুটির দিনে দুজনকে আঙুলে হীরার আংটি পরা অবস্থায় দেখা যায়, যা তাঁদের বিয়ের গুঞ্জনকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার সংকেত দিয়েছিল। বিশ্বকাপের পর সংসার শুরু করার যে আভাস রোনালদো আগে দিয়েছিলেন, পর্তুগালের বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হওয়ার পর এবার সেই প্রতীক্ষার মধুর অবসান হতে চলেছে।
মন্তব্য