আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: 20শে আশ্বিন ১৪৩২ | ৫ই অক্টোবর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
চলতি বছরের এপ্রিল মাসে কাশ্মীরের পেহেলগামে একটি সন্ত্রাসী আক্রমণের পরিপ্রেক্ষিতে ভারত ও পাকিস্তান স্মরণকালের মধ্যে অন্যতম ভয়াবহ এক দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ে। সেই থেকে এখন পর্যন্ত দুই দেশের মধ্যে চরম শত্রুতার সম্পর্ক বিদ্যমান। এর মধ্যে সৌদি আরবের সঙ্গে একটি শক্তিশালী প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়ে পাকিস্তান ভারতকে গভীর উদ্বেগের মধ্যে ফেলেছে। অন্যদিকে, ভারতও চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে জোট বেঁধে আলাদা একটি শক্তিশালী পক্ষ তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছে।
সংক্ষেপে, সম্প্রতি দুই দেশের মধ্যে ক্ষমতার তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা চোখে পড়ছে। এই পরিস্থিতিতে ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং সম্প্রতি পাকিস্তানকে মানচিত্র থেকে মুছে ফেলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। একই সুরে কথা বলেছেন দেশটির সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদীও।
এমন চরম হুমকি পেয়ে পাকিস্তান স্বাভাবিকভাবেই নীরব থাকেনি। ভারতের সর্বোচ্চ রাজনৈতিক ও সামরিক স্তর থেকে আসা এই অস্তিত্বের হুমকির তীব্র জবাব দিয়েছে দেশটির সামরিক বাহিনী। পাশাপাশি, পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফও ভারতের প্রতি জোরালো পাল্টা সতর্কবার্তা দিয়েছেন।
রবিবার (৫ অক্টোবর) টিআরটি ওয়ার্ল্ড এবং জিও নিউজের পৃথক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুসারে, শনিবার (৪ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে পাকিস্তান সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ভারতের নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে আসা ভ্রান্ত, প্ররোচনামূলক ও যুদ্ধবাদী মন্তব্যে আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। ভবিষ্যতে কোনো সংঘাত দেখা দিলে তা ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনবে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, যদি সংঘাত আবার শুরু হয়, তাহলে পাকিস্তান আর সংযম দেখাবে না। কোনো প্রকার দ্বিধা ছাড়াই আমরা দৃঢ়তার সঙ্গে পাল্টা আক্রমণ করব।
পাকিস্তান সেনাবাহিনী আরও জানায়, প্রতিপক্ষের ভূখণ্ডের ‘প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত প্রত্যাঘাত হানার সামর্থ্য ও প্রস্তুতি’ পাকিস্তানের রয়েছে। এবার আমরা ভারতের তথাকথিত ভূগোলভিত্তিক নিরাপত্তার ভ্রান্ত ধারণা ভেঙে দেব।
পাকিস্তান সেনাবাহিনীর এই বিবৃতির একদিন না যেতেই ভারতের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি দেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ। রবিবার (৫ অক্টোবর) সকালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, যদি ভারত আবারও যুদ্ধ চাপিয়ে দেয়, ইনশাআল্লাহ, তাদের যেসব যুদ্ধবিমান ধ্বংস হবে, সেগুলোর ধ্বংসাবশেষের নিচেই তাদের কবর দেওয়া হবে।
ভারতের সামরিক ও রাজনৈতিক নেতাদের সাম্প্রতিক মন্তব্যকে বিশ্বাসযোগ্যতা পুনরুদ্ধারের ব্যর্থ প্রয়াস হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন খাজা আসিফ। তিনি ইঙ্গিত দেন যে, শীর্ষ মহলের চাপের কারণেই তাঁরা এই ধরনের মন্তব্য করছেন।
পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, ৬-০ ব্যবধানে পরাজয়ের পরেও যদি তারা পুনরায় চেষ্টা করে, তবে পাকিস্তানের স্কোর আরও ভালো হবে। গতবারের হারের পর ভারতের জনমত এখন ক্ষমতাসীন দলের বিরুদ্ধে চলে গেছে। নেতাদের কথায় তারই প্রতিফলন ঘটছে।
খাজা আসিফ আরও বলেন, পাকিস্তান আল্লাহর নামে প্রতিষ্ঠিত একটি রাষ্ট্র, আমাদের রক্ষাকারীরা আল্লাহর সৈনিক। এবার ইনশাআল্লাহ, ভারত তাদের বিমানগুলোর ধ্বংসাবশেষের নিচেই সমাধিস্থ হবে। আল্লাহু আকবর।
এর আগে, শুক্রবার (৩ অক্টোবর) ভারতীয় সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী পাকিস্তানকে সতর্ক করে বলেন, দেশটি যদি মানচিত্রে নিজের স্থান ধরে রাখতে চায়, তবে সন্ত্রাসবাদে মদদ দেওয়া বন্ধ করতে হবে।
তিনি বলেন, ‘অপারেশন সিঁদুর ১.০-তে আমরা যে সহনশীলতা দেখিয়েছিলাম, এবার আর তা রাখব না… এবার আমরা এমন কিছু করব যা পাকিস্তানকে ভাবতে বাধ্য করবে যে তারা মানচিত্রে থাকতে চায় কি না।’
এর আগের দিন বৃহস্পতিবার গুজরাটের ভুজ সীমান্ত ঘাঁটিতে সেনাদের উদ্দেশ্যে ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেন, পাকিস্তান যদি স্যার ক্রিক এলাকায় আগ্রাসন দেখানোর চেষ্টা করে, তবে এমন জবাব দেওয়া হবে যা ইতিহাস ও ভূগোল দুটোই পাল্টে দিতে পারে।
খবরওয়ালা/টিএসএন