খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
মানিকগঞ্জ জেলার সিংগাইর উপজেলা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে চারটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান। তবে গভীর রাতে এই দুর্ঘটনা ঘটায় কোনো ধরনের হতাহত বা প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। সংশ্লিষ্ট ফায়ার সার্ভিস স্টেশন এবং স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে এই অগ্নিকাণ্ডের বিস্তারিত বিবরণ ও ক্ষয়ক্ষতির চিত্র উঠে এসেছে।
গত বৃহস্পতিবার (৪ জুন ২০২৬) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে সিংগাইর উপজেলার বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন বাজার এলাকায় এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। স্থানীয় বাসিন্দা ও ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ওই এলাকার ‘কালাচাঁন মিষ্টির দোকান’ থেকে প্রথম আগুনের শিখা দেখা যায়। মুহূর্তের মধ্যে আগুনের তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়ে তা পার্শ্ববর্তী অন্যান্য বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে ছড়িয়ে পড়ে। মিষ্টির দোকানটির ঠিক পাশেই অবস্থিত একটি মুদি দোকান, একটি মোবাইল রিচার্জের দোকান এবং একটি কনফেকশনারি দোকান আগুনে সম্পূর্ণভাবে ভস্মীভূত হয়। গভীর রাতে দোকানগুলো বন্ধ থাকায় ভেতরে কোনো মানুষ ছিলেন না, যার ফলে কোনো প্রাণহানি ঘটেনি। তবে দোকানগুলোর ভেতরে থাকা সমস্ত মালামাল, ব্যবসায়িক আসবাবপত্র এবং অন্যান্য পণ্যসামগ্রী পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার পরপরই সিংগাইর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ফায়ার সার্ভিসের অগ্নিনির্বাপক কর্মীদের সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দারাও তাৎক্ষণিকভাবে আগুন নেভানোর কাজে যোগ দেন। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় প্রায় ৪০ মিনিটের একটানা চেষ্টার পর আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। প্রাথমিকভাবে ফায়ার সার্ভিস কর্তৃক নিরূপিত ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ নিচে টেবিল আকারে উপস্থাপন করা হলো:
| ক্ষতিগ্রস্ত দোকানের নাম ও ধরন | আগুনের সূত্রপাত ও বিস্তৃতির বিবরণ | ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ ও আনুমানিক পরিমাণ |
| ১. কালাচাঁন মিষ্টির দোকান | এই দোকানটি থেকেই প্রথম আগুনের সূত্রপাত ঘটে। | ভেতরের আসবাবপত্র, মিষ্টি তৈরির সরঞ্জাম ও পণ্য সম্পূর্ণ ভস্মীভূত। |
| ২. মুদি দোকান | মিষ্টির দোকান থেকে আগুন দ্রুত এই দোকানে ছড়ায়। | দোকানে মজুতকৃত নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী ও মালামাল পুড়ে ছাই। |
| ৩. মোবাইল রিচার্জের দোকান | পার্শ্ববর্তী অবস্থান হওয়ায় মুহূর্তের মধ্যে আগুন গ্রাস করে। | ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী, রিচার্জ কার্ড ও ক্যাশ পুড়ে নষ্ট। |
| ৪. কনফেকশনারি দোকান | আগুনের তীব্র বিস্তৃতির কারণে চতুর্থ দোকান হিসেবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। | বেকারি পণ্য, ফ্রিজ এবং অন্যান্য আসবাবপত্র ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত। |
| সর্বমোট ক্ষয়ক্ষতি (প্রাথমিক) | চারটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত | আনুমানিক ১২ লাখ টাকা (তদন্ত সাপেক্ষে চূড়ান্ত হবে) |
এই অগ্নিকাণ্ডের বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা মো. সাদেক জানান, গভীর রাতে দুর্ঘটনাটি ঘটায় এবং দোকানগুলো বন্ধ থাকায় কোনো মানুষ দুর্ঘটনার কবলে পড়েননি। তবে আগুনে ব্যবসায়ীদের বিপুল পরিমাণ মালামাল পুড়ে যাওয়ায় তাঁরা চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
সিংগাইর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মো. মহিবুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিটকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছিল। স্থানীয় জনসাধারণের সক্রিয় সহযোগিতায় প্রায় ৪০ মিনিটের প্রচেষ্টায় আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, প্রাথমিক আলামত ও তদন্ত সাপেক্ষে ধারণা করা হচ্ছে যে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকেই এই আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল। অগ্নিকাণ্ডে চারটি দোকানের প্রায় ১২ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে নিরূপণ করা হয়েছে। তবে ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে তদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পরেই ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত ও চূড়ান্ত পরিমাণ নিশ্চিতভাবে জানা যাবে।