খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 2শে বৈশাখ ১৪৩৩ | ১৫ই এপ্রিল ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত কঠোর নৌ-অবরোধ মোকাবিলায় ব্যর্থ হয়ে হরমুজ প্রণালিতে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছে নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত তেলবাহী জাহাজ ‘রিচ স্টারি’। জাহাজ চলাচলের গতিপথ এবং শিপিং ডাটা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) পারস্য উপসাগর থেকে আন্তর্জাতিক জলসীমায় প্রবেশের চেষ্টা করলেও মার্কিন বাহিনীর কঠোর অবস্থানের কারণে বুধবার জাহাজটি পুনরায় ফিরে আসে।
গত রোববার পাকিস্তানের ইসলামাবাদে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে অনুষ্ঠিত শান্তি আলোচনা কোনো প্রকার সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়। এর পরপরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানি বন্দরগুলোর ওপর কঠোর নৌ-অবরোধ আরোপের ঘোষণা দেন। এই ঘোষণার ফলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াতকারী আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর ওপর চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, অবরোধ কার্যকর হওয়ার প্রথম ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কোনো জাহাজই মার্কিন বেষ্টনী অতিক্রম করতে সক্ষম হয়নি। সেন্টকমের তথ্যমতে, অন্তত ছয়টি জাহাজ মার্কিন নৌবাহিনীর নির্দেশ মেনে নিয়ে পুনরায় ইরানি বন্দরে ফিরে গেছে। মঙ্গলবার ওমান উপসাগরে অবস্থিত ইরানের চাবাহার বন্দর থেকে দুটি তেলবাহী ট্যাংকার বের হওয়ার চেষ্টা করলে একটি মার্কিন ডেস্ট্রয়ার সেগুলোকে বাধা প্রদান করে।
চীনের মালিকানাধীন ‘রিচ স্টারি’ জাহাজটি মঙ্গলবার জলপথ অতিক্রমের চেষ্টা করা আটটি জাহাজের মধ্যে অন্যতম ছিল। এই জাহাজটি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য নিচে প্রদান করা হলো:
মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান: সাংহাই সুয়ানরুন শিপিং কোম্পানি।
পণ্যের বিবরণ: প্রায় ২ লক্ষ ৫০ হাজার ব্যারেল মিথানল।
উৎসবিন্দু: সংযুক্ত আরব আমিরাতের হামরিয়াহ বন্দর।
আইনি অবস্থা: ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক লেনদেনের দায়ে জাহাজটি এবং এর মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান উভয়ই বর্তমানে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রয়েছে।
বর্তমানে পারস্য উপসাগরে জাহাজের যাতায়াত এবং কার্গো সক্ষমতা সম্পর্কিত একটি তুলনামূলক চিত্র নিচে উপস্থাপন করা হলো:
| জাহাজের নাম | ধরন | বর্তমান অবস্থা | পণ্যের পরিমাণ / সক্ষমতা | গন্তব্য / উদ্দেশ্য |
| রিচ স্টারি | মাঝারি পাল্লার ট্যাংকার | হরমুজ প্রণালিতে ফেরত | ২,৫০,০০০ ব্যারেল মিথানল | চাবাহার বন্দর অভিমুখে |
| অ্যালিসিয়া | ভিএলসিসি (VLCC) | পারস্য উপসাগরে প্রবেশরত | ২০ লক্ষ ব্যারেল (খালি) | ইরাক থেকে তেল সংগ্রহ |
বর্তমান এই নৌ-অবরোধ বিশ্বজুড়ে জাহাজ মালিক, জ্বালানি তেল উৎপাদনকারী সংস্থা এবং যুদ্ধকালীন ঝুঁকি বীমাকারীদের মধ্যে চরম অস্থিরতা তৈরি করেছে। শিল্প সংশ্লিষ্ট পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সরাসরি যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ১৩০টিরও বেশি বাণিজ্যিক জাহাজ যাতায়াত করত। মার্কিন অবরোধ এবং আঞ্চলিক অস্থিরতার কারণে বর্তমানে সেই সংখ্যা অর্ধেকেরও নিচে নেমে এসেছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই কঠোর অবস্থানের ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা গুরুতর হুমকির মুখে পড়েছে। ওমান উপসাগর এবং পারস্য উপসাগরের সংযোগস্থলে মার্কিন বাহিনীর টহল আন্তর্জাতিক নৌ-বাণিজ্যে দীর্ঘমেয়াদী সংকটের আশঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদি এই অবরোধ দীর্ঘায়িত হয়, তবে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক সরবরাহ চেইন ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে এই অঞ্চলে মোতায়েন করা মার্কিন ডেস্ট্রয়ারগুলো কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে যাতে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা কোনো জাহাজ বা ইরানি পণ্যবাহী জাহাজ আন্তর্জাতিক জলসীমায় প্রবেশ করতে না পারে।