খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 5শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ১৭ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
মালয়েশিয়ায় অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে চলমান কঠোর অবস্থানের অংশ হিসেবে তেরেঙ্গানো রাজ্যে এক বিশাল সাঁড়াশি অভিযান পরিচালিত হয়েছে। ‘মেগা অপারেশন’ হিসেবে অভিহিত এই অভিযানে ২২২ জন বাংলাদেশি নাগরিকসহ মোট ২২৬ জন বিদেশি নাগরিককে গ্রেফতার করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ। গত রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে শুরু হয়ে বিকেল ৫টা পর্যন্ত রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে এই তল্লাশি ও আটক প্রক্রিয়া চলে।
তেরেঙ্গানো ইমিগ্রেশন বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ ইউসরি মোহাম্মদ নুর এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযানের বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি জানান, ওই দিন মোট ৩১৬ জন বিদেশি নাগরিকের নথিপত্র যাচাই-বাছাই ও তল্লাশি করা হয়। এর মধ্যে ইমিগ্রেশন আইন ১৯৫৯/৬৩-এর বিভিন্ন ধারা লঙ্ঘনের দায়ে ২২৬ জনকে আটক করা হয়। আটককৃতদের মধ্যে বিশাল একটি অংশই বাংলাদেশি।
প্রাথমিক তদন্ত ও ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, আটককৃতরা মূলত তিনটি প্রধান অপরাধে অভিযুক্ত:
১. মালয়েশিয়ায় অবস্থানের জন্য কোনো বৈধ পাসপোর্ট বা ব্যক্তিগত নথিপত্র না থাকা।
২. ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবৈধভাবে দেশটিতে অবস্থান করা (ওভারস্টে)।
৩. কাজের অনুমতির শর্ত ভঙ্গ করে ভিন্ন কর্মক্ষেত্রে কাজ করা বা ভিসার অপব্যবহার।
আটককৃতদের জাতীয়তা ভিত্তিক পরিসংখ্যান নিচে দেওয়া হলো:
| জাতীয়তা | আটককৃত ব্যক্তির সংখ্যা |
| বাংলাদেশি | ২২২ জন |
| ইন্দোনেশিয়ান | ৩ জন |
| ভারতীয় | ১ জন |
| মোট আটক | ২২৬ জন |
পরিচালক মোহাম্মদ ইউসরি আরও জানান যে, ২০২৬ সালের শুরু থেকেই অনিবন্ধিত অভিবাসীদের বিরুদ্ধে তাদের অভিযান অত্যন্ত জোরদার করা হয়েছে। ১ জানুয়ারি থেকে ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তেরেঙ্গানো ইমিগ্রেশন বিভাগ মোট ৪১৫ জন অনিবন্ধিত অভিবাসী শ্রমিককে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে। এই পরিসংখ্যান মালয়েশিয়ায় বিদেশি শ্রমিকদের বর্তমান নথিপত্র সংক্রান্ত সংকটের গভীরতাকেই ফুটিয়ে তোলে।
চলতি বছরের প্রথম দুই মাসে গ্রেফতারকৃতদের উৎস দেশসমূহ:
বাংলাদেশ ও ভারত
ইন্দোনেশিয়া ও মিয়ানমার
পাকিস্তান ও থাইল্যান্ড
কম্বোডিয়া ও নেপাল
গ্রেফতারকৃত ২২২ জন বাংলাদেশিসহ সকল বিদেশি নাগরিককে বর্তমানে কুয়ালা বেরংয়ের ‘আজিল ইমিগ্রেশন ডিপো’তে নেওয়া হয়েছে। সেখানে তাদের নথিপত্র পুনরায় যাচাই এবং আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। মালয়েশিয় আইন অনুযায়ী, অবৈধভাবে অবস্থানের দায়ে তাদের বড় অঙ্কের জরিমানা, কারাদণ্ড এবং শেষে নিজ দেশে প্রত্যাবাসনের (ডিপোর্টেশন) সম্মুখীন হতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মালয়েশিয়ায় সাম্প্রতিক সময়ে ইমিগ্রেশন বিভাগের এই কঠোরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশটিতে অবস্থানরত অনথিভুক্ত প্রবাসীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকে বারবার প্রবাসীদের বৈধ পথে কাজ করা এবং নথিপত্র সঠিক রাখার পরামর্শ দেওয়া হলেও প্রতি বছরই বড় একটি অংশ এমন আইনি জটিলতায় আটকা পড়ছে।