অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 29শে আশ্বিন ১৪৩২ | ১৪ই অক্টোবর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
রাজধানীর মিরপুরে রাসায়নিকের গুদাম ও পোশাক কারখানায় আগুন লেগে এখন পর্যন্ত ৯ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। স্বজনরা অভিযোগ করেছেন, এ ঘটনায় এখনও অনেকের খোঁজ পাওয়া যায়নি। অগ্নিকাণ্ডের পর ঘটনাস্থল ও আশপাশের হাসপাতালগুলোতে নিখোঁজ স্বজনদের খুঁজে ফিরছেন অসংখ্য মানুষ। অনেকেই প্রিয়জনের ছবি হাতে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়ছেন।
মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) মিরপুরের শিয়ালবাড়িতে গিয়ে এ চিত্র দেখা গেছে।
ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, পোশাক কারখানার ভেতরে ঢুকতে পারলেও রাসায়নিকের গুদামে এখনও প্রবেশ করা সম্ভব হয়নি। এই অবস্থায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মিরপুরের ৩ নম্বর রোডের ওই রাসায়নিক গুদাম ও পাশের পোশাক কারখানায় আগুন লাগে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ১২টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে।
বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ঘটনাস্থলে দেখা যায়, কয়েক হাজার মানুষ ভিড় জমিয়েছেন। কারখানায় কাজ করা শ্রমিকদের স্বজনেরা ছবি হাতে আহাজারি করছেন। পরিবারের সদস্যদের আহাজারিতে অগ্নিদুর্ঘটনাকবলিত স্থান ও আশপাশের সড়ক ভারী হয়ে উঠেছে।
নিখোঁজ নারগিস আক্তারের বড় বোন লাইজু বেগম বলেন, আমার বোন সকাল পৌনে ৮টায় কাজে আসে। সকাল ১১টায় খবর পাই আগুন লেগেছে। সেখানের একজনের সঙ্গে ফোনে কথা বলে জানতে পারি, কেউ ভেতর থেকে বের হতে পারেনি। এর পর থেকে আর কোনো খোঁজ পাইনি। এখনো কোনো খোঁজ নাই আমার বোন কোথায় আছে।
ভাগনি সুলতানা ও তাঁর স্বামী জয়ার ছবি হাতে ইয়াসিন নামের আরও একজন বলেন, আমার ভাগনি ও ভাগনির জামাই তিন দিন আগে কাজে ঢুকেছে। আজ সকালে দুজন একসঙ্গে কাজে আসে। আগুন লাগার পর ফোন দিয়ে জানায়, তারা ভেতরে আটকে গেছে। এর পর থেকে আর কোনো খোঁজ নেই।
মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, আমার ভাগনি মাহিরা। গার্মেন্টসের তিনতলায় কাজ করত। তাকে খুঁজে পাচ্ছি না। আগুন লাগার পর থেকে আমরা তাকে খুঁজছি। আশপাশের হাসপাতালেও খোঁজ নিয়েছি। কোথাও খুঁজে পাইনি। ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে কথা বলেছি, তারা বলেছে ধৈর্য ধরতে।
স্বজনেরা ক্ষোভও প্রকাশ করছেন। তারা জানাচ্ছেন, সকাল থেকে আগুন নেভানো ও উদ্ধারকাজ চলছে, কিন্তু এখনও ভেতরে প্রবেশ ও কাউকে উদ্ধার করা যায়নি।
এদিকে, ঘটনাস্থল থেকে এখনও ধোঁয়া বের হচ্ছে। ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা আগুন নেভাতে চেষ্টা করছেন। বিশৃঙ্খলা রোধে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও বিজিবি কাজ করছেন। এ সময় দুটি অ্যাম্বুলেন্স অগ্নিকাণ্ডস্থল থেকে বের হতে দেখা গেছে।
ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম বলেন, আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ চলছে। অগ্নিনির্বাপণ শেষে ভেতরের পরিস্থিতি জানা যাবে।
খবরওয়ালা/শরিফ