খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৫ জুলাই ২০২৫
রাজধানীর মিরপুরের একটি মাদ্রাসা থেকে ১৪ বছরের এক হেফজ বিভাগের ছাত্রের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
ঘটনার পর সেই ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা—তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
মাদ্রাসার নাম মারকাযু ফয়জিল কুরআন আল-ইসলামী, যেখানে নিহত ছাত্র সিয়াম আবাসিকভাবে পড়ালেখা করত। সোমবার (২১ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে মাদ্রাসার দোতলার একটি শৌচাগার থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ছবিতে দেখা যায়, জানালার গ্রিলের সঙ্গে গলায় গামছা প্যাঁচানো অবস্থায় লুঙ্গি, পাঞ্জাবি ও টুপি পরা কিশোরটি ঝুলছে। তার এক পা কমোডে ও আরেক পা মেঝেতে ঠেকে ছিল। পাশে পড়ে ছিল দুটি বদনা।
দারুসসালাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিব-উল-হোসেন বলেন, “প্রাথমিকভাবে এটিকে আত্মহত্যা বলে মনে হচ্ছে। পরিবারের কোনো আপত্তি না থাকায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।”
ঘটনার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আজিজুল হক জানান, মাদ্রাসার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, সিয়াম প্রথমে একবার শৌচাগারে যায়, পরে একটি গামছা নিয়ে আবার প্রবেশ করে। এরপর দীর্ঘক্ষণ না বের হওয়ায় সহপাঠীরা ডাকাডাকি করে। দরজা না খোলায় ছিটকিনি ভেঙে ভেতরে ঢুকে তার মরদেহ দেখতে পায় তারা।
তবে ঘটনার তিন দিন পর, বুধবার রাতে মরদেহের ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই পোস্টে এটিকে “হত্যা” বলে সন্দেহ প্রকাশ করছেন।
জানা গেছে, সিয়ামের গ্রামের বাড়ি সাতক্ষীরার শ্যামনগরে। তিনি দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে বড় ছিলেন। মৃত্যুর আগের দিন বাবা সাজ্জাদ হোসেন ঢাকায় এসে ছেলের ঠোঁট ও পায়ের ফোসকার জন্য চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গিয়েছিলেন।
এসআই আজিজুল হক বলেন, “ময়নাতদন্ত রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে ঘটনাস্থলের আলামত এবং সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।”
খবরওয়ালা/আশ