খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 11শে চৈত্র ১৪৩২ | ২৫ই মার্চ ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের অঙ্গন বর্তমানে উত্তপ্ত বিতর্কে ছেয়ে আছে। আগামী ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের প্রস্তুতির প্রীতি ম্যাচগুলির জন্য জাতীয় দলে নেইমারের অনুপস্থিতি সবচেয়ে আলোচিত বিষয়। ব্রাজিলের কোচ কার্লো আনচেলত্তি ৩৪ বছর বয়সী তারকা ফরোয়ার্ডকে দলের বাইরে রেখেছেন, যা তাত্ক্ষণিকভাবে দেশের কিংবদন্তি রোমারিও এবং রোনালদোর মত প্রবীণ খেলোয়াড়দের সমালোচনার ঝড় তুলে দিয়েছে।
আনচেলত্তির দল আগামী কয়েকদিনে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে। প্রথমটি হবে ফ্রান্সের বিপক্ষে, যা অনুষ্ঠিত হবে বৃহস্পতিবার রাতে। দ্বিতীয় ম্যাচে ব্রাজিল মুখোমুখি হবে ক্রোয়েশিয়ার সঙ্গে, ১ এপ্রিল বাংলাদেশ সময় ভোরে।
| ম্যাচ | বিপক্ষ | তারিখ (বাংলাদেশ সময়) | নেইমারের উপস্থিতি |
|---|---|---|---|
| ১ম প্রীতি ম্যাচ | ফ্রান্স | ২৭ মার্চ ২০২৬ | নেই |
| ২য় প্রীতি ম্যাচ | ক্রোয়েশিয়া | ১ এপ্রিল ২০২৬ | নেই |
নেইমার ২০২৩ সালের শেষ দিকে হাঁটুর মারাত্মক চোটের কারণে জাতীয় দলে আর ডাক পাননি। আনচেলত্তি স্পষ্টতই নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের উপর জোর দিচ্ছেন এবং ফিটনেসকে প্রাধান্য দিচ্ছেন। তবে রোমারিও মনে করেন, অভিজ্ঞ তারকাকে দলের বাইরে রাখার সিদ্ধান্ত অযৌক্তিক।
১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপ জয়ী রোমারিও ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যম ‘জার্নাল ও দিয়া’-কে বলেছেন, “একজন তারকা খেলোয়াড়ের প্রতিভা নষ্ট করা ঠিক নয়। জাতীয় দল হলো সেরাদের জায়গা। বিশ্বকাপের প্রস্তুতির জন্য এক মাস যথেষ্ট সময় ফিটনেস ফিরিয়ে আনার জন্য। নেইমারের মতো একজন তারকা দলের অংশ না থাকলে, অন্য কোনো খেলোয়াড়ের তুলনায় তার অভাব অনুভূত হবে।”
তিনি আরও বলেন, “নেইমার ব্রাজিলিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে প্রমাণ করবে যে সে চূড়ান্ত দলে থাকার যোগ্য। আমি আশা করি, সে ষষ্ঠ বিশ্বকাপ জেতার লড়াইয়ে অংশ নেবে।” রোমারিওর সতর্কবার্তা স্পষ্ট, “মিস্টার, (নেইমারের দিকে) একটু খেয়াল রাখবেন।”
‘দ্য ফেনোমেনন’ রোনালদো নাজারিওও রোমারিওর সঙ্গে সহমত প্রকাশ করেছেন, তবে তুলনামূলকভাবে সংযমী। ১৯৯৪ ও ২০০২ বিশ্বকাপজয়ী স্ট্রাইকার বলেছেন, “নেইমারের ১২৮ আন্তর্জাতিক ম্যাচে ৭৯ গোল—তার পরীক্ষা করার প্রয়োজন নেই। সে ফিট থাকলে আমি তাকে বিশ্বকাপে নিতাম। আনচেলত্তিও তাকে নেবে, এতে সন্দেহ নেই।”
নেইমার সান্তোসের হয়ে এ মৌসুমে পাঁচটি ম্যাচ মিস করেছেন। তবে যে খেলায় অংশ নিয়েছেন, সেখানে তিনি ৩টি গোল করেছেন এবং ১টি গোলের সহায়তা দিয়েছেন। তিনি প্রমাণ করছেন যে তাঁর গতি ও প্রভাব এখনও বজায় আছে।
ব্রাজিলিয়ান ফুটবল মহলে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, আনচেলত্তি শেষ পর্যন্ত নেইমারের প্রতি কেমন মনোভাব নেবেন। মে মাসের মাঝামাঝি চূড়ান্ত দল ঘোষণার আগে, নেইমারের জন্য ফিটনেস প্রমাণ করাই একমাত্র পথ। প্রতিভা নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই, এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ধারাবাহিকতা ও সুস্থ থাকা।