খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) সম্প্রতি সকল কর্মকর্তাদের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন যে, দেশের মুক্তিযোদ্ধাদের সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সম্মান প্রদর্শন নিশ্চিত করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, স্বাধীনতার পর মুক্তিযোদ্ধাদের যথাযথ মর্যাদা সবক্ষেত্রে নিশ্চিত করা হয়নি এবং এ বিষয়ে প্রশাসনের আরও দায়িত্বশীল ও সচেতন হওয়া আবশ্যক।
বুধবার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় মন্ত্রী বলেন, “যে কোনো মুক্তিযোদ্ধা যখন মন্ত্রণালয়ে আসবেন, তাকে আন্তরিকতা এবং সর্বোচ্চ সম্মান জানাতে হবে।” এ সময় তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সংরক্ষণ, ইতিহাস রক্ষা এবং মুক্তিযোদ্ধাদের মর্যাদা নিশ্চিত করার গুরুত্বেও জোর দেন।
মন্ত্রী হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম অতীতের স্মৃতি তুলে ধরে জানান, তৎকালীন মেজর ও পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। এছাড়া, তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক দিক তুলে ধরেন, যেখানে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট (ইবিআর) এবং ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলস (ইপিআর) এর সদস্যরা মুক্তিবাহিনী গঠন করেছিলেন। এর ফলে বীরত্বের সঙ্গে জীবন বাজি রেখে দেশ স্বাধীন হয়।
মন্ত্রী আরও বলেন, “মুক্তিযুদ্ধ ছিল জনগণের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। তরুণ সমাজ স্বতঃস্ফূর্তভাবে এতে অংশ নিয়েছিল।” তিনি একাত্তরের রণাঙ্গনের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, বাঙালি জনগণ বৈষম্য ও নিপীড়নের শিকার হয়েও অসীম সাহসিকতার সঙ্গে স্বাধীনতার সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। বিপুলসংখ্যক ছাত্র-যুবক এবং সাধারণ মানুষ এই সংগ্রামে অংশ নিয়ে দেশের স্বাধীনতা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। পাকিস্তানি বাহিনী একটি জাতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়েছিল, কিন্তু জনগণের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের মুখে তারা পরাজিত হয়েছিল।
সভায় মন্ত্রী কর্মকর্তাদের সেবা প্রদানকে সময়ানুবর্তী, পেশাগতভাবে নিষ্ঠাবান এবং জনগণমুখী করার নির্দেশ দেন। সভায় মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
নিচের টেবিলে মুক্তিযুদ্ধের উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণকারীদের সংক্ষিপ্ত বিবরণ তুলে ধরা হলো:
| বিভাগ | প্রধান অবদান | উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্ব |
|---|---|---|
| মুক্তিবাহিনী গঠন | ইবিআর ও ইপিআরের সদস্যদের মাধ্যমে স্বাধীনতার লড়াই পরিচালনা | তৎকালীন অফিসার ও বীর যোদ্ধা |
| স্বাধীনতা ঘোষণা | চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে ঘোষণা | শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান |
| জনগণের অংশগ্রহণ | ছাত্র-যুবক ও সাধারণ জনগণ স্বাধীনতার যুদ্ধে অংশগ্রহণ | সর্বস্তরের বাঙালি জনগণ |
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এই নির্দেশনার মাধ্যমে দেশপ্রেম ও সাহসিকতার চেতনা নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে এবং মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান নিশ্চিত করতে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করবে।