খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 7শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ১৯ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ফুটবল বিশ্বকাপের উত্তাপ ফুটবল বিশ্বে ছড়িয়ে পড়তে এখনও মাস চারেক বাকি থাকলেও মেক্সিকোর মাঠগুলো এখন থেকেই রণসজ্জায় প্রস্তুত হচ্ছে। তবে এই প্রস্তুতি কেবল ফুটবলারদের জন্য নয়, বরং গ্যালারির ওপরের আকাশকে নিরাপদ রাখার জন্য। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ড্রোন হামলা বা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে মেক্সিকোর সেনাবাহিনী এক নজিরবিহীন নিরাপত্তা মহড়া শুরু করেছে। মেক্সিকো সিটির একটি সামরিক ঘাঁটিতে সম্প্রতি সেনাসদস্যরা তাঁদের অত্যাধুনিক ‘অ্যান্টি-ড্রোন’ বা ড্রোনবিধ্বংসী সরঞ্জামের এক প্রদর্শনী ও সক্ষমতা যাচাই সম্পন্ন করেছেন।
আগামী ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত মেক্সিকো, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় যৌথভাবে অনুষ্ঠিত হবে ফুটবলের এই মহাযজ্ঞ। টুর্নামেন্টের মোট ১০৪টি ম্যাচের মধ্যে ১৩টি ম্যাচ আয়োজন করবে মেক্সিকো। এই ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে মেক্সিকো সিটি, গুয়াদালাহারা ও মনতেরি—এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ভেন্যুতে। এই অঞ্চলগুলোতে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা লক্ষ লক্ষ মানুষের সমাগম ঘটবে, যাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা মেক্সিকোর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের জন্য এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
মেক্সিকোর বিশ্বকাপ ভেন্যু ও ম্যাচের বিবরণ:
| ভেন্যুর নাম | শহরের নাম | ম্যাচের সংখ্যা | বিশেষ গুরুত্ব |
| এস্তাদিও আজটেকা | মেক্সিকো সিটি | ৫টি | উদ্বোধনী ম্যাচ ও বড় জনসমাগম। |
| এস্তাদিও আকরন | গুয়াদালাহারা | ৪টি | ঐতিহাসিক ফুটবল ঐতিহ্য। |
| এস্তাদিও বিবিভিএ | মনতেরি | ৪টি | আধুনিক প্রযুক্তিগত অবকাঠামো। |
মেক্সিকোর সাধারণ মানুষের কাছে ড্রোন এখন আর কেবল শখের ভিডিওগ্রাফি বা শৌখিন যন্ত্র নয়। দেশটির কুখ্যাত মাদক কার্টেলগুলো যেমন—সিনালোয়া এবং কার্টেল জালিস্কো নুয়েভা জেনারেশন (সিজেএনজি) গত কয়েক বছরে সাধারণ ড্রোনকে মারণাস্ত্রে রূপান্তর করেছে। ইন্টারনেট থেকে কেনা সাধারণ ড্রোনে বিস্ফোরক বেঁধে তারা প্রতিপক্ষ বা সরকারি স্থাপনায় হামলা চালাচ্ছে। গত বছরের অক্টোবরে তিহুয়ানা শহরে সরকারি কৌঁসুলির কার্যালয়ে ড্রোন থেকে বোমা হামলার ঘটনাটি বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। এই ‘ড্রোন মবিলাইজেশন’ বা ড্রোনের অপব্যবহার রুখতেই বিশ্বকাপের আগে সেনাবাহিনী ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে।
সেনাবাহিনীর যোগাযোগ ও ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ার ক্যাপ্টেন হোসে আলফ্রেডো লারা বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছেন, স্টেডিয়াম এবং ‘ফ্যান ফেস্ট’ এলাকাগুলোতে ড্রোনবিরোধী একটি অদৃশ্য দেয়াল তৈরি করা হবে। মেক্সিকোর সেনাবাহিনী মূলত দুই ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করবে:
১. সেমি-মোবাইল সিস্টেম: এটি স্টেডিয়ামের চারপাশে একটি নির্দিষ্ট জিপিএস বা রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি বাউন্ডারি তৈরি করবে। কোনো অননুমোদিত ড্রোন এই সীমানায় প্রবেশ করলেই তার সিগন্যাল জ্যাম হয়ে যাবে।
২. পোর্টেবল অ্যান্টি-ড্রোন গান: এটি দেখতে বন্দুকের মতো। একজন প্রশিক্ষিত সেনাসদস্য ড্রোনের দিকে এটি তাক করলে তাৎক্ষণিকভাবে পাইলটের সাথে ড্রোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে এবং ড্রোনটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মুখ থুবড়ে পড়বে।
যদিও বিশ্বকাপের মূল ভেন্যুগুলো থেকে মাদক কার্টেল প্রভাবিত এলাকাগুলো ভৌগোলিকভাবে দূরে, তবুও কোনো ধরনের ঝুঁকি নিতে নারাজ প্রশাসন। আন্তর্জাতিক দর্শকদের আশ্বস্ত করে মেক্সিকো সরকার জানিয়েছে, আকাশপথের পাশাপাশি স্থলপথেও বিশেষায়িত কমান্ডো বাহিনী মোতায়েন থাকবে। বিশ্বজুড়ে উগ্রবাদী গোষ্ঠী বা স্থানীয় অপরাধী চক্র যেন ড্রোনের মাধ্যমে কোনো নাশকতা চালাতে না পারে, সেজন্য গোয়েন্দা নজরদারিও কয়েক গুণ বাড়ানো হয়েছে। মেক্সিকোর এই ড্রোনবিরোধী তৎপরতা প্রমাণ করে যে, আধুনিক যুদ্ধের মতো আধুনিক খেলার মাঠেও এখন আকাশপথের নিরাপত্তাই সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার।