খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৩ অক্টোবর ২০২৫
প্রজননকালে মা ইলিশের সুরক্ষার জন্য লক্ষ্মীপুরের মেঘনা নদীতে ২২ দিনের জন্য মাছ শিকারের উপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞা ৩ অক্টোবর মধ্যরাত থেকে কার্যকর হবে এবং আগামী ২৫ অক্টোবর দিবাগত রাত ১২টা পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।
আইন অমান্যকারীদের জন্য কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।
এছাড়া, সরকারি নির্দেশনা কার্যকর করতে নিষেধাজ্ঞার সময় জেলার ৪৪ হাজার ১৬৭ জন জেলেকে মাথাপিছু ২৫ কেজি করে চাল সহায়তা দেওয়া হবে।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তার দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ৩ অক্টোবর মধ্যরাত থেকে মা ইলিশ সংরক্ষণের অভিযান শুরু হবে। এই সময়ে রামগতির আলেকজান্ডার এলাকা থেকে চাঁদপুরের ষাটনল পর্যন্ত মেঘনা নদীর অংশে সব ধরনের মাছ ধরায় সরকারিভাবে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এই নির্দেশনা ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করলে দোষী ব্যক্তিকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা, সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড এবং উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার নিয়ম রয়েছে।
লক্ষ্মীপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম জানান, লক্ষ্মীপুরে প্রায় ৫৫ হাজার নিবন্ধিত জেলে আছেন। এর মধ্যে সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার জন্য নিষেধাজ্ঞার সময়কালে জেলার ৪৪ হাজার ১৬৭টি জেলে পরিবারকে মোট ১১০৪ টন ভিজিএফের চাল বিতরণ করা হবে। প্রতিটি জেলে পরিবারকে ২৫ কেজি করে চাল দেওয়া হবে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ৫ হাজার ৭৫০ জন, রামগতিতে ২০ হাজার ৪১৭ জন, কমলনগরে ১১ হাজার ৫০০ জন এবং রায়পুরে ৬ হাজার ৫০০ জন এই চাল সহায়তা পাবেন।
জেলে এবং মৎস্য ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, ভরা মৌসুমেও লক্ষ্মীপুরের মেঘনা নদীতে তেমন ইলিশ ধরা পড়েনি। এখন নদীতে গিয়ে মাছ ধরা জেলেদের জন্য লাভজনক নয়। আগের তুলনায় ইলিশের পরিমাণ এক-চতুর্থাংশে নেমে এসেছে। চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বাড়ার কারণে নদীতে নামার খরচও ওঠে না। ফলে ধরা মাছ বেশি দামে বিক্রি করতে হয়। তা না হলে জেলে ও আড়তদারদের না খেয়ে মরার উপক্রম হবে।
খবরওয়ালা/টিএসএন