খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 14শে শ্রাবণ ১৪৩২ | ২৯ই জুলাই ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
রাজধানীর ধানমণ্ডি থানায় প্রতারণা ও চাঁদাবাজির অভিযোগে করা মামলায় মডেল মেঘনা আলমের জব্দ করা ম্যাকবুক, ল্যাপটপ ও মোবাইলে রাষ্ট্রবিরোধী কোনো উপাদান রয়েছে কি না, তা তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে এসব ডিভাইসের প্রকৃত মালিকানা যাচাই করে আগামী ৩১ আগস্টের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এম এ আজহারুল ইসলামের আদালত এ আদেশ দেন। এদিন শুনানির জন্য মেঘনা আলমকে আদালতে হাজির করা হয়।
বেলা ১১টা ৯ মিনিটে শুরু হওয়া শুনানিতে মেঘনা আদালতের কাঠগড়ায় ওঠেন জায়নামাজ হাতে নিয়ে। পরে তার আইনজীবী মহসিন রেজা ও মহিমা বাঁধন মেঘনার ব্যবহৃত ডিভাইস ও পাসপোর্ট ফিরিয়ে দেওয়ার আবেদন করেন। কিন্তু রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশিদ এর বিরোধিতা করে বলেন, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ও আলোচিত মামলা।
তিনি জানান, মামলাটি এখনো তদন্তাধীন এবং অভিযুক্ত ডিভাইসগুলো ব্যবহার করে ব্যবসায়ী ও কূটনীতিকদের ব্ল্যাকমেইল করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার। তাই তদন্তের স্বার্থে এসব জিনিসপত্র ফেরত না দেওয়ার প্রার্থনা করা হয়।
শুনানিকালে আদালতে মেঘনা বলেন, তার সঙ্গে অনেক রাষ্ট্রদূতের পেশাগত সম্পর্ক রয়েছে। সৌদি রাষ্ট্রদূত ইশা তাকে প্রেমের সম্পর্কের ফাঁদে ফেলেছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি।
তার ভাষায়, “আমার কাছে এ বিষয়ে যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে। আমি দেখাতে পারব কে কাকে প্রেমের ফাঁদে ফেলেছে।” তখন বিচারক বলেন, “এটি আলোচনার বিষয় নয়।”
পরে মেঘনা বলেন, “বাংলাদেশের ভাবমূর্তি অনেকাংশে আমার ওপর নির্ভর করে। আমি ছয়টি মহাদেশের ১০টি আন্তর্জাতিক সংস্থায় কাজ করি। আমার ব্যক্তিগত ম্যাকবুক, ল্যাপটপ, মোবাইল ও পাসপোর্ট আমাকে ফেরত দেওয়া হোক।”
জবাবে রাষ্ট্রপক্ষ জানায়, এজাহারে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে তিনি নারীদের ব্যবহার করে ব্ল্যাকমেইল করে থাকেন। এতে মেঘনা প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, “আপনি একজন রাষ্ট্রদূতকে অসম্মান করছেন।” এরপর উভয়পক্ষের মধ্যে তর্কবিতর্ক হয়। মেঘনা বলেন, “আমি এখন পর্যন্ত নির্দোষ।”
এর আগে গত ১০ এপ্রিল বিশেষ ক্ষমতা আইনে তাকে ৩০ দিনের আটকাদেশ দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে তা বাতিল হয়। ১৭ এপ্রিল ধানমণ্ডি থানার মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয় এবং ২৮ এপ্রিল জামিন মঞ্জুর হলে পরদিন ২৯ এপ্রিল তিনি মুক্তি পান।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, মেঘনা আলম, দেওয়ান সমির ও আরও কয়েকজন একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের সদস্য। তারা সুন্দরী তরুণীদের মাধ্যমে বিদেশি কূটনীতিক ও দেশীয় ধনাঢ্য ব্যবসায়ীদের প্রেমের ফাঁদে ফেলে এবং পরে তাদের সম্মানহানির ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায় করতেন।
দেওয়ান সমির ‘কাওয়াই গ্রুপ’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের সিইও এবং ‘সানজানা ইন্টারন্যাশনাল’ নামে একটি ম্যানপাওয়ার প্রতিষ্ঠানের মালিক বলে জানা গেছে। এছাড়া তার ‘মিরআই ইন্টারন্যাশনাল ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড’ নামেও একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যেখানে সুন্দরী তরুণীদের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর নিয়োগ দিয়ে তিনি কূটনীতিক ও ব্যবসায়ীদের সহজে প্রবেশাধিকার দিতেন এবং ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে বড় অংকের অর্থ আদায় করতেন।
খবরওয়ালা/টিএসএন