নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: 26শে আষাঢ় ১৪৩২ | ১০ই জুলাই ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ঢাকাবাসীর যাতায়াত ব্যবস্থায় নতুন যুগের সূচনা করেছে আওয়ামী লীগ সরকারের অন্যতম সফল ও লাভজনক প্রকল্প মেট্রোরেল। বর্তমানে এই আধুনিক গণপরিবহন অনেকাংশে কমিয়ে এনেছে রাজধানীবাসীর দুর্ভোগ। দীর্ঘ যানজট এড়িয়ে সময় ও অর্থ সাশ্রয়ের পাশাপাশি নিরাপদ, আরামদায়ক এবং নির্ভরযোগ্য যাত্রা নিশ্চিত করেছে এই রেলসেবা। ২০২২ সালে চালু হওয়া এই রেলে বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে যাতায়াত করে প্রায় ৪ লাখ মানুষ।
তবে যাত্রীদের নিরাপদ, সময়মতো ও আরামদায়ক যাত্রা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন হয় মেট্রোরেলের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ।
কিন্তু গত কয়েক মাসে মেট্রোরেল ব্যবস্থাপনায় একের পর এক গাফিলতি ও প্রযুক্তিগত সমস্যা নিয়ে জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও এসি লাইনে ত্রুটি, কোথাও পাঞ্চ মেশিন অকার্যকর—এই ধরনের নানা ছোট-বড় সমস্যায় যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়ছে।
সম্প্রতি রাজধানীর একাধিক স্টেশনে দেখা গেছে, ছাদের এসি ভেন্ট দিয়ে বৃষ্টির পানি পড়ে প্ল্যাটফর্ম ভিজে যাচ্ছে। কেউ কেউ ভেজা প্ল্যাটফর্মে পা পিছলে পড়ার আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন।
নেটিজনদের অনেকেই মনে করছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের একটি সফল উদ্যোগ বলেই এটিকে ম্লান করে দিতে রক্ষণাবেক্ষণে কর্তৃপক্ষ এতটা উদাসীন।
হযরত এম হাসান নামের একটি ফেসবুক একাউন্ট থেকে মেট্রোরেলের এসি থেকে পানি পড়ার ভিডিও শেয়ার করে তিনি উল্লেখ করেন, ‘শেখ হাসিনার প্রত্যেকটা অর্জনকে ইউনূস ব্যর্থ প্রমাণ করতে উঠেপড়ে লেগেছে, মেইনটেনেন্সের অভাবে এসি-ভেন্ট দিয়ে বৃষ্টির পানি ভিতরে পড়ছে আমাদের স্বপ্নের মেট্রোরেলে! ভেন্ডিং মেশিন নাই, পাঞ্চ মেশিনে কোন পাঞ্চিং নাই, আজকে দেখি এসির লাইন দিয়ে পানি পড়তেছে। ইউনূস মেট্রোরেলকে নিয়ে তামাশা শুরু করছে।’
আরেকজন নিয়মিত যাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “যেখানে প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক রেলসেবা পাচ্ছি বলে বিশ্বাস করেছিলাম, সেখানে মাথার ওপর দিয়ে পানি পড়ছে—এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”
এছাড়া যাত্রীসেবার অন্যান্য মৌলিক সুবিধাও ধীরে ধীরে ভেঙে পড়ছে। অনেক স্টেশনে নেই পর্যাপ্ত ভেন্ডিং মেশিন, যেগুলো থাকার কথা ছিল স্বয়ংক্রিয় টিকিট বিক্রির জন্য। অন্যদিকে, টিকিট পাঞ্চিং মেশিন অনেক জায়গায় কাজ করছে না। যাত্রীরা অভিযোগ করেছেন, কখনো নিজে থেকেই গেট খুলে যাচ্ছে, আবার কোথাও গেট খোলার সময়সূচি ঠিক না থাকায় হুলস্থুল পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।
পরিবহন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রযুক্তিনির্ভর সেবা হিসেবে মেট্রোরেলকে সচল রাখা এবং এর মান বজায় রাখতে হলে প্রতিনিয়ত রক্ষণাবেক্ষণ ও আপডেট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো একটি ত্রুটি যদি সময়মতো চিহ্নিত না হয় বা সমাধান না করা হয়, তাহলে তা পুরো ব্যবস্থাকে নষ্ট করে দিতে পারে।
নাগরিক সুবিধার নামে প্রচারিত এই আধুনিক প্রকল্পটি যদি সময়মতো সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ না পায়, তবে এর কার্যকারিতা ও জনপ্রিয়তা—দুটোই হুমকির মুখে পড়বে।
খবরওয়ালা/এমএজেড