খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 5শে পৌষ ১৪৩২ | ১৯ই ডিসেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
খুলনা নগরীতে আবারও নৃশংস সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। মোটরসাইকেলে এসে সশস্ত্র দুর্বৃত্তরা গুলি করে হত্যা করেছে ইমদাদুল হক মিলন (৪৫) নামের এক সাংবাদিককে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন দেবাশীষ বিশ্বাস (৩০) নামের এক পশু চিকিৎসক। বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে খুলনা মহানগরীর আড়ংঘাটা থানাধীন শলুয়া বাজার এলাকায় একটি চায়ের দোকানে বসে থাকার সময় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সাংবাদিক মহলে গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শলুয়া বাজারের একটি চায়ের দোকানে মিলন, দেবাশীষসহ কয়েকজন আড্ডা দিচ্ছিলেন। এ সময় দুটি মোটরসাইকেলে করে চারজন অস্ত্রধারী সেখানে পৌঁছে কোনো কথা না বলেই এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। প্রথমে দেবাশীষ বিশ্বাসের বুকে গুলি লাগে। তিনি সঙ্গে সঙ্গে লুটিয়ে পড়েন। এরপর হামলাকারীরা সাংবাদিক ইমদাদুল হক মিলনকে লক্ষ্য করে মাথায় গুলি করে। গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। হামলার পরপরই অস্ত্রধারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
স্থানীয়রা দ্রুত আহত দেবাশীষ বিশ্বাস ও মিলনকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতাল সূত্র জানায়, জরুরি বিভাগে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক ইমদাদুল হক মিলনকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত দেবাশীষ বিশ্বাসকে সার্জারি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে এবং তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
খুলনা মহানগর পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (উত্তর) সুদর্শন কুমার রায় ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে কাজ করছে এবং একাধিক টিম গঠন করে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পেছনের কারণ উদঘাটনে বিভিন্ন ক্লু সংগ্রহ করা হচ্ছে। দ্রুতই ঘটনার রহস্য উন্মোচন করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
নিহত সাংবাদিক ইমদাদুল হক মিলন খুলনার ‘বর্তমান সময়’ নামের একটি অনলাইন সংবাদমাধ্যমে কর্মরত ছিলেন। পাশাপাশি তিনি শলুয়া প্রেস ক্লাবের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছিলেন। এর আগে তিনি ‘দৈনিক প্রবাহ’ নামে একটি স্থানীয় পত্রিকায় সাংবাদিকতা করেছেন। এলাকায় তিনি একজন পরিচিত ও সামাজিকভাবে সক্রিয় ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
নিহতের চাচা মো. জামাল শরীফ কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, খবর পেয়ে রাস্তায় গিয়ে মিলনকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখি। দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসলেও তাকে বাঁচানো যায়নি। তিনি বলেন, মিলনের কোনো শত্রু ছিল বলে তাদের জানা নেই। তিনি শলুয়া বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছিলেন।
অন্যদিকে আহত দেবাশীষ বিশ্বাসের ভাই সঞ্জিত বিশ্বাস জানান, তার ভাই মূলত ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তাকে কারা বা কেন লক্ষ্যবস্তু করেছে, তা তারা বুঝতে পারছেন না।
আড়ংঘাটা থানার ওসি শাহজাহান আহমেদ বলেন, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। হামলাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে। এই ঘটনার মাধ্যমে খুলনায় আবারও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।