খবরওয়ালা আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: 21শে আষাঢ় ১৪৩২ | ৫ই জুলাই ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির তৃতীয় মেয়াদের প্রথম বছরেই দেশটিতে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক অপরাধ ও বক্তব্য আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে বলে জানিয়েছে দিল্লিভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যাসোসিয়েশন ফর প্রোটেকশন অব সিভিল রাইটস (এপিসিআর)। মুসলিম, দলিত, আদিবাসী এবং খ্রিষ্টানসহ অন্য সংখ্যালঘুদের ওপর এই সহিংসতা ‘পদ্ধতিগত ও প্রতিহিংসাপরায়ণ’ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
গত বছরের ৭ জুন থেকে ৭ জুন ২০২৫—এই এক বছরে মোট ৯৪৭টি ঘৃণামূলক ঘটনা নথিভুক্ত করেছে সংস্থাটি। এর মধ্যে ৩৪৫টি বিদ্বেষপূর্ণ বক্তব্য এবং ৬০২টি সরাসরি ঘৃণা-সম্পর্কিত অপরাধ হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। ঘৃণা-সম্পর্কিত অপরাধের মধ্যে ১৭৩টি ঘটনায় শারীরিক সহিংসতা এবং ২৫টি ঘটনায় মৃত্যু ঘটেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহতদের সবাই মুসলিম সম্প্রদায়ের।
৩৪৫টি বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের মধ্যে ১৭৮টিই বিজেপি-ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি বা নেতাদের কাছ থেকে এসেছে, যার মধ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিজেই দিয়েছেন ৫টি বক্তব্য। বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলোর মুখ্যমন্ত্রীরা ৬৩টি এবং অন্যান্য নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা ৭১টি বিদ্বেষমূলক মন্তব্য করেছেন বলে জানানো হয়েছে। এ তালিকায় এমনকি দুজন বিচারক এবং একজন রাজ্যপাল-এর নামও রয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ ও মহারাষ্ট্র—এই তিনটি বিজেপি-শাসিত রাজ্যে ঘৃণা-সম্পর্কিত অপরাধের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এছাড়া গণেশ চতুর্থী, রাম নবমী, হোলি ও নবরাত্রির মতো ধর্মীয় উৎসবগুলোও মুসলিম ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সহিংসতার ক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।
সংস্থাটির মতে, ৬০২টি ঘৃণামূলক অপরাধের মাত্র ১৩ শতাংশে এফআইআর দায়ের হয়েছে, যা পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা বা রাজনৈতিক প্রভাবের আভাস দেয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, এসব অপরাধকে দমন না করে অনেক ক্ষেত্রেই প্রশাসন নীরব থেকেছে।
এপিসিআর জানায়, শুধু জাতীয় নির্বাচন নয়, স্থানীয় নির্বাচনকেও কেন্দ্র করে ঘৃণামূলক উসকানি বাড়ানো হয়। দিল্লি, ঝাড়খণ্ড, মহারাষ্ট্র ও উত্তরাখণ্ডে এসব ঘটনার ঘনত্ব বেড়েছে নির্বাচনপূর্ব সময়ে, যার উদ্দেশ্য ছিল নির্বাচনী ফায়দা আদায়।
প্রতিবেদনের ভাষায়, “ভারতে হিন্দুত্ব এখন শুধুই মতাদর্শ নয়, এটি একটি শাসন কাঠামোতে রূপ নিয়েছে—যার ভিত্তি হলো সহিংসতার স্বাভাবিকীকরণ, সংখ্যালঘুদের লক্ষ্যবস্তু করা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের মৌন সমর্থন।”
বিশ্লেষণমূলক দৃষ্টিকোণ থেকে, এপিসিআরের এই প্রতিবেদন ভারতের বর্তমান সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতার উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরেছে, যা আন্তর্জাতিক মহলেও আলোচনার জন্ম দিতে পারে।
খবরওয়ালা/আরডি