খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২৫
উত্তরপ্রদেশের আলিগঞ্জ থানার কিনৌদি খয়রাবাদ গ্রামে ঘটে গেছে এক হৃদয়বিদারক ঘটনা। জমিতে কাজ করতে গিয়ে মৌমাছির আকস্মিক আক্রমণে প্রাণ হারিয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা আতার সিং, বয়স ৬২ বছর। পরিবার ও স্থানীয়দের কাছে এটি এক আতঙ্কজনক ও অপ্রত্যাশিত মৃত্যু, যা মুহূর্তের মধ্যে পুরো গ্রামকে শোকাভিভূত করেছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে আতার সিং দুই ছেলের সঙ্গে জমির সেচ দিতে যান। সাধারণ দিনের মতো কাজ করছিলেন তারা। কিন্তু কিছু সময়ের মধ্যেই আকাশের দিক থেকে ভয়ঙ্কর গুঞ্জন শুনতে পান। বুঝে ওঠার আগেই একটি বিশাল মৌমাছির ঝাঁক তাদের দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে।
আতার সিংয়ের দুই ছেলে কোনওভাবে পালিয়ে নিরাপদ দূরত্বে যেতে সক্ষম হলেও তিনি নিজেকে রক্ষা করতে পারেননি। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই মৌমাছিরা তার পুরো শরীর ঢেকে ফেলতে থাকে এবং বহু হুল ফোটায়। অতিরিক্ত দংশনের যন্ত্রণায় তিনি ধীরে ধীরে অচেতন হয়ে মাঠেই পড়ে যান।
পরিবার ও প্রতিবেশীরা তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় কমিউনিটি হেলথ সেন্টারে নিয়ে যান। চিকিৎসকরা জানান, আতার সিংয়ের শরীরে এত বেশি হুল ছিল যে তিনি মারাত্মক অ্যালার্জিক রিঅ্যাকশনে আক্রান্ত হন। দ্রুত রক্তচাপ কমে যায়, শ্বাসপ্রশ্বাস বন্ধ হয়ে আসে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন—
মৌমাছি একসঙ্গে আক্রমণ করলে শরীরে অতিরিক্ত বিষ ঢুকে যায়।
এটি ‘অ্যানাফাইল্যাকটিক শক’ তৈরি করে, যা হার্ট ও লিভারসহ গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গে ক্ষতি করে।
চিকিৎসা না পেলে কয়েক মিনিটেই মৃত্যু হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আতার সিং ঠিক এমনই একটি পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন, যেখানে আক্রমণ এত দ্রুত ঘটে যে প্রতিরোধ বা চিকিৎসা দেওয়ার সময়ই পাওয়া যায়নি।
ঘটনার পর গ্রামবাসীর মনে এক ধরনের ভয় তৈরি হয়েছে। স্থানীয়রা দাবি করেছেন—গ্রামে মৌমাছির সংখ্যা হঠাৎ বেড়ে গেছে। অনেক গাছ, বাড়ির ছাদ ও বাজারের আশপাশে বড় বড় মৌচাক দেখা যায়।
তারা মনে করছেন—
মৌচাক অপসারণের নিয়মিত ব্যবস্থা না থাকার কারণেই বিপদ বাড়ছে।
কেউ পরিস্থিতির গুরুত্ব উপলব্ধি না করায় ঝুঁকি বাড়ছে প্রতিদিন।
পশ্চিবঙ্গ ও উত্তরভারতের গ্রামীণ এলাকায় এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি বাড়ছে বলে গবেষণায় জানা গেছে। বন্য প্রাণীর মতো মৌমাছিও মানুষের পরিবেশগত চাপের কারণে বেশি আক্রমণাত্মক হয়ে উঠছে।
বিশেষজ্ঞরা সুপারিশ করছেন—
স্থানীয় প্রশাসনের উচিত গ্রামে মৌমাছির ঝুঁকি–বিষয়ক সচেতনতা বৃদ্ধি করা।
কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং জরুরি চিকিৎসা কিট রাখা।
মৌচাক থাকলে তা বিশেষজ্ঞদের সাহায্যে নিরাপদে সরিয়ে ফেলা।
আতার সিং ছিলেন একজন শৃঙ্খলাপরায়ণ, ভদ্র ও সমাজহিতৈষী মানুষ। অবসরপ্রাপ্ত হলেও গ্রামবাসীর নানা কাজে সহযোগিতা করতেন। তার আকস্মিক মৃত্যু পরিবারকে ভেঙে দিয়েছে, এবং এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।