মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে এক নারীকে জোরপূর্বক অপহরণের চেষ্টার ঘটনায় পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। এ সময় অপহরণের কাজে ব্যবহৃত সাদা রঙের একটি প্রাইভেট কার জব্দ করা হয়েছে।
বুধবার (১১ মার্চ) দুপুর ২টায় মৌলভীবাজার পুলিশ সুপার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নোবেল চাকমা এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের নাম ও ঠিকানা নিম্নরূপ:
| নাম | বয়স | বাড়ি এলাকা | পিতার নাম |
|---|---|---|---|
| মো. জাকির মিয়া | ২৬ | শ্রীপুর (নাছিরাবাদ), কুলাউড়া | মতছির আলী |
| মো. কাওছার আহমদ | ৩৪ | সৈয়ারপুর, সদর থানা | আব্দুর রহমান |
| জসিম মিয়া | ৩৬ | গুলবাগ (বেরিরচর), মৌলভীবাজার | নুর মিয়া |
ঘটনার বিবরণ
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নোবেল চাকমা জানিয়েছেন, গত ৮ মার্চ সকালে কমলগঞ্জ উপজেলার ৫ নম্বর ইউনিয়নের দক্ষিণ বালিগাঁও গ্রামের বাসিন্দা ফাতেমা পারভেজ নিশি (২৯) শ্রীমঙ্গল যাওয়ার উদ্দেশ্যে বটতলা বাজারে অপেক্ষা করছিলেন। এই সময় সাদা রঙের একটি প্রাইভেট কার এসে তাকে জিজ্ঞাসা করে শ্রীমঙ্গল যাবেন কিনা। নারীর অস্বীকারের পরেও গাড়িটি বারবার তার চারপাশে ঘোরাফেরা করতে থাকে।
পরবর্তীতে, যখন ফাতেমা বাড়ির দিকে হাঁটতে শুরু করেন, গাড়িটি তাকে অনুসরণ করে। একপর্যায়ে গাড়ির ভেতরে থাকা একজন ব্যক্তি তার মুখ চেপে ধরে এবং ১০-১২ হাত টেনে নিয়ে জোরপূর্বক গাড়িতে তুলে অপহরণের চেষ্টা করে। তবে ফাতেমা ধস্তাধস্তির মাধ্যমে পালিয়ে নিরাপদে যেতে সক্ষম হন।
পুলিশের পদক্ষেপ
ভিকটিমের অভিযোগের ভিত্তিতে কমলগঞ্জ থানা ৯ মার্চ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ অনুযায়ী মামলা রুজু করে। পরবর্তী দিন সিসি ক্যামেরার ফুটেজ, তথ্য প্রযুক্তি এবং ম্যানুয়াল সোর্সিংয়ের মাধ্যমে সিলেট মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সোবহানীঘাট এলাকার আত্মা কমিউনিটি সেন্টারের ভেতর থেকে অপহরণের কাজে ব্যবহৃত সাদা প্রাইভেট কারটি উদ্ধার করা হয়েছে।
অতিরিক্ত তথ্য
নোবেল চাকমা আরও জানিয়েছেন, গ্রেপ্তারকৃত জাকির, কাওছার ও জসিমের বিরুদ্ধে সিডিএমএস যাচাই অনুযায়ী চুরি ও মাদক সংক্রান্ত একাধিক মামলা রয়েছে। এছাড়া তাদের সহযোগী জাহাঙ্গীর (পলাতক) এর বিরুদ্ধে ডাকাতিসহ তিনটি মামলা দায়ের রয়েছে। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার এবং মামলার তদন্ত কার্যক্রম এখনও চলমান।
এই ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বৃদ্ধি করেছে, এবং পুলিশ সক্রিয়ভাবে অভিযান চালিয়ে অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।



