খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 27শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ১১ই মার্চ ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবলে অংশগ্রহণ বিষয়ে আবারও সংশয় প্রকাশ করেছেন ইরান ফুটবল ফেডারেশনের (এফএফআইআরআই) সভাপতি মেহদি তাজ। ইরান নারী ফুটবল দলের কয়েকজন খেলোয়াড়ের অস্ট্রেলিয়ায় আশ্রয় প্রাপ্তির প্রেক্ষাপটে তিনি এমন মন্তব্য করেছেন।
বিশ্বকাপটি এই বছর যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠিত হবে এবং খেলা শুরু হবে ১১ জুন থেকে। এফএফআইআরআই সভাপতি মেহদি তাজের মন্তব্য রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষিতে এসেছে। বর্তমানে ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে একটি ভূ-রাজনৈতিক সংঘাতের মধ্যে আছে। ইরান অভিযোগ করেছে, যুদ্ধের শুরুতে মিনাব শহরে স্কুলে সংঘটিত বোমা হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দায়ী।
মেহদি তাজ রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলেন,
“আমেরিকার রাষ্ট্রপতি টুইট করে আমাদের খেলোয়াড়দের রাজনৈতিক আশ্রয় দেওয়ার কথা বলেছেন। অস্ট্রেলিয়া যদি না দেয়, তবে আমেরিকা করবে। আমাদের শিশুদের হত্যা করা হয়েছে, আর এখন মেয়েদের অপহরণ করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে আমরা কীভাবে বিশ্বকাপে আশাবাদী হতে পারি?”
তিনি আরও প্রশ্ন তুলেছেন,
“এমন পরিস্থিতিতে কে স্বাভাবিক বিবেচনায় জাতীয় দলকে খেলোয়াড় হিসেবে এমন জায়গায় পাঠাবে?”
ইরান ‘জি’ গ্রুপে অন্তর্ভুক্ত এবং তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলো হলো: বেলজিয়াম, মিসর ও নিউজিল্যান্ড। দলের দুটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে লস অ্যাঞ্জেলেস এবং একটি সিয়াটলে।
নারী ফুটবল দলের অস্ট্রেলিয়া সফরের প্রেক্ষাপটটিও বিবেচনা করা জরুরি। নারী এশিয়ান কাপ খেলতে যাওয়ার পর অস্ট্রেলিয়া মোট সাতজন ইরানি খেলোয়াড় ও স্টাফকে আশ্রয় দিয়েছে।
| খেলার তথ্য | স্থান | মন্তব্য |
|---|---|---|
| গ্রুপ ম্যাচ | লস অ্যাঞ্জেলেস | দুটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে |
| গ্রুপ ম্যাচ | সিয়াটল | একটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে |
| নারী এশিয়ান কাপ | অস্ট্রেলিয়া | গ্রুপ পর্ব থেকে বাদ পড়ার পর ৭ জনকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে |
নারী এশিয়ান কাপে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে ইরান জাতীয় সংগীত না গাওয়ায় খেলোয়াড়দের দেশের টেলিভিশনে ‘বিশ্বাসঘাতক’ তকমা দেওয়া হয়েছিল। দেশে ফিরে শাস্তি ভয়ের কারণে তারা অস্ট্রেলিয়ায় আশ্রয় চেয়েছেন। পরবর্তী ম্যাচে জাতীয় সংগীত গাওয়া হয়েছে।
মেহদি তাজ দাবি করেছেন,
“আমাদের নারী জাতীয় দল জাতীয় সংগীত গেয়েছে এবং সামরিক স্যালুট দিয়েছে। তবে ছয়জন খেলোয়াড় ও এক স্টাফকে অপহরণ করা হয়েছে, এবং দলকে অস্ট্রেলিয়া ত্যাগের সময় বাধা দেওয়া হয়েছে। খেলার পর অস্ট্রেলিয়ান পুলিশ হস্তক্ষেপ করেছে এবং সংবাদ অনুযায়ী হোটেল থেকে এক বা দুজন খেলোয়াড়কে বের করে নিয়ে গেছে।”
এ পরিস্থিতি ইরান দলের বিশ্বকাপ অংশগ্রহণকে অনিশ্চিত করেছে এবং আন্তর্জাতিক ফুটবল মহলে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।