খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 24শে ফাল্গুন ১৪৩১ | ৮ই মার্চ ২০২৫ | 1149 Dhu al-Hijjah 5
বিশ্বে দুই বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে উত্তেজনা দিন দিন বাড়ছে। শুল্কযুদ্ধ, বাণিজ্যনীতি ও সামরিক প্রস্তুতির মধ্যে দুদেশের সম্পর্কের টানাপোড়েন বিশ্বব্যাপী উদ্বেগ তৈরি করেছে। আবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফিরে চীনের বিরুদ্ধে কঠোর নীতি গ্রহণ করেছেন। ইতোমধ্যে চীনা পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করেছেন এবং রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ করতে নানা উদ্যোগ নিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে ভারতকে পাশে চাওয়ার বার্তা দিয়েছে চীন।
শুক্রবার (৭ মার্চ) চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই`র দেওয়া এক বক্তব্যে এমনই ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।
সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের নাম না নিলেও ডোনাল্ড ট্রাম্পকেই বার্তা দিয়েছেন তিনি। ন্যাশনাল পিপল’স পার্টির বৈঠকে ওয়াং বলেছেন, দিল্লি ও বেইজিংকে একত্রে কাজ করতে হবে এবং আধিপত্যবাদ ও পেশিশক্তির রাজনীতির বিরুদ্ধে উভয় দেশকে একত্রে নেতৃত্ব দিতে হবে। ফলে হাতি (ভারত) ও ড্রাগনের (চীন) নাচকে বাস্তবে পরিণত করাই একমাত্র সঠিক পথ। এ ছাড়া ওয়াং ই তাঁর ভাষণে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রশংসা করেছেন।
তিনি বলেছেন, যদি এশিয়ার দুই সর্ববৃহৎ অর্থনীতির দেশ এক হয় তাহলে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের দিক থেকে ‘গ্লোবাল সাউথ’-এর ভবিষ্যৎ অত্যন্ত উজ্জ্বল। এ ছাড়া দুই দেশ অতীতের জটিলতা সমাধান করতে কাজ করছে বলে জানান ওয়াং।
চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গত বছর থেকে সমস্যা মেটাতে ইতিবাচক আলোচনা করেছে দুই দেশ। রাশিয়ায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করেছেন শি জিনপিং। দুই দেশ নিজেদের তরফ থেকে যৌথ পদক্ষেপ নিয়েছে। সীমান্ত ইস্যুতে দুই দেশের সংঘাত আগের চেয়ে অনেকটা কেটেছে। যা দুই দেশের জন্যই ইতিবাচক।
তিনি বলেন, ‘অতীতের অভিজ্ঞতার সারসংক্ষেপ তুলে ধরে দ্রুত এগিয়ে যাওয়ার জন্য এবং চীন-ভারত সম্পর্ককে সুস্থ ও স্থিতিশীল উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিতে ভারতের সাথে কাজ করতে চীন প্রস্তুত।’
তবে চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এসব মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে এখন পর্যন্ত ভারতের পক্ষ থেকে কোনো জবাব দেওয়া হয়নি বলে এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
চীনের সঙ্গে ভারতের সীমান্ত নিয়ে কিছু সমস্যা রয়েছে। ১৯৬২ সালের যুদ্ধ এবং ১৯৬৭ সালের সীমান্ত সংঘাতের পর নিয়ন্ত্রণ রেখা (এলওসি) তুলনামূলক শান্ত ছিল। ২০১৭ সাল থেকে পরিস্থিতি আবার উত্তপ্ত হতে শুরু করে। সে বছর ডোকলামে টানা ৭৩ দিন দুই দেশের বাহিনী পরস্পরের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছিল। পরে কূটনৈতিক পথে উত্তেজনা প্রশমিত হয়। ২০২০ সালে পূর্ব লাদাখের গালওয়ানে রক্তাক্ত সংঘর্ষ হয় ভারতীয় সেনার সঙ্গে চীনের সেনাদের। মাঝে মধ্যেই সীমান্ত ও এশিয়ায় প্রভাব বিস্তার নিয়ে প্রকাশ্যেই দুই দেশকে একে অন্যের বিরুদ্ধে মাঠে নামতে দেখা যায়।
খবরওয়ালা/আরডি