খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 29শে মাঘ ১৪৩২ | ১১ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হারের সেই তিক্ত স্মৃতি এখনো ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে টাটকা। তবে ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এসে যেন মুদ্রার উল্টো পিঠ দেখল ক্রিকেট বিশ্ব। ডালাসের সেই পরাজয়ের প্রতিশোধ কলম্বোর মাটিতে সুদে-আসলে মিটিয়ে নিল পাকিস্তান। গ্রুপ পর্বের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রকে ৩২ রানে হারিয়ে টুর্নামেন্টে টানা দ্বিতীয় জয় তুলে নিয়েছে বাবর আজমের দল। এই জয়ের ফলে সুপার এইটের পথে অনেকটাই এগিয়ে গেল সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।
ম্যাচের শুরু থেকেই পাকিস্তানি ব্যাটারদের মধ্যে আগ্রাসী মনোভাব লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে ওপেনার সাহিবজাদা ফারহান শুরু থেকেই ছিলেন মারমুখী। উদ্বোধনী জুটিতে সাইম আইয়ুবকে সঙ্গে নিয়ে মাত্র ৫ ওভারেই ৫৪ রান সংগ্রহ করেন তিনি। যদিও সাইম ব্যক্তিগত ১৯ রানে শ্যাডলি ফন শালভিকের শিকার হন, কিন্তু ফারহান দমে যাননি। তিনি ৪১ বলে ৭৩ রানের এক ঝোড়ো ইনিংস খেলেন, যা পাকিস্তানের বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দেয়। অধিনায়ক বাবর আজম ৩২ বলে ৪৬ রান করে তাঁকে যোগ্য সঙ্গ দেন। শেষ দিকে শাদাব খানের ১২ বলে ৩০ রানের ক্যামিও ইনিংসের ওপর ভর করে পাকিস্তান ৯ উইকেটে ১৯০ রানের শক্তিশালী সংগ্রহ পায়।
নিচে ম্যাচের সংক্ষিপ্ত পরিসংখ্যান ও মূল পারফরম্যান্স তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | বিবরণ |
| পাকিস্তানের স্কোর | ১৯০/৯ (২০ ওভার) |
| যুক্তরাষ্ট্রের স্কোর | ১৫৮/৮ (২০ ওভার) |
| ম্যাচের ফলাফল | পাকিস্তান ৩২ রানে জয়ী |
| সেরা ব্যাটার (পাকিস্তান) | সাহিবজাদা ফারহান (৭৩ রান, ৪১ বল) |
| সেরা বোলার (পাকিস্তান) | উসমান তারিক (৩/২৭) |
| সেরা বোলার (যুক্তরাষ্ট্র) | শ্যাডলি ফন শালভিক (৪/২৫) |
যুক্তরাষ্ট্রের বোলার শ্যাডলি ফন শালভিক আজ একাই লড়াই করেছেন পাকিস্তানের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনের বিপক্ষে। ৪ ওভারে মাত্র ২৫ রান দিয়ে তিনি ৪টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নেন। তাঁর নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের কারণেই পাকিস্তান এক পর্যায়ে ২০০ রানের কাছাকাছি গিয়েও ১৯০ রানে থমকে যায়। ভারতের পর পাকিস্তানের বিপক্ষেও ৪ উইকেট নিয়ে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিলেন ৩৭ বছর বয়সী এই অভিজ্ঞ বোলার।
রান তাড়া করতে নেমে যুক্তরাষ্ট্র শুরুটা ভালোই করেছিল। উদ্বোধনী জুটিতে ৪২ রান তুললেও মোহাম্মদ নেওয়াজের আঘাতে সেই জুটি ভেঙে যায়। পরবর্তীতে শুভম রঞ্জানে ৩০ বলে ৫১ রানের এক লড়াকু ইনিংস খেলেন এবং শায়ান জাহাঙ্গীর করেন ৪৯ রান। তবে পাকিস্তানের স্পিনার উসমান তারিকের নিয়ন্ত্রিত বোলিং এবং শাদাব খানের অলরাউন্ড নৈপুণ্যের সামনে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে যুক্তরাষ্ট্র। শেষ পর্যন্ত তারা ৮ উইকেটে ১৫৮ রানে থামলে পাকিস্তান বড় জয় নিশ্চিত করে।
ম্যাচের আগে পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত মার্কিন ক্রিকেটার মোহাম্মদ মহসিন হুঙ্কার দিয়েছিলেন যে পাকিস্তানই চাপে থাকবে। কিন্তু মাঠে তার প্রতিফলন দেখা যায়নি। পাকিস্তান দলের পেশাদারিত্ব এবং গোছানো বোলিং আক্রমণের কাছে ম্লান হয়ে গেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরোধ। প্রথম ম্যাচে নেদারল্যান্ডসকে হারানোর পর এটি পাকিস্তানের টানা দ্বিতীয় জয়। গ্রুপ পর্বে নিজেদের অবস্থান শক্ত করে সুপার এইটের দৌড়ে এখন বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন বাবর-ফারহানরা।