খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬
২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপে ‘জি’ গ্রুপে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস মিলছে। এই গ্রুপে ইরানের সঙ্গে রয়েছে বেলজিয়াম, মিসর ও নিউজিল্যান্ড। সূচি অনুযায়ী, আগামী ১৫ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফি স্টেডিয়ামে ইরান ও নিউজিল্যান্ড মুখোমুখি হবে, যা দুই দলেরই টুর্নামেন্টে প্রথম ম্যাচ। তবে সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ম্যাচটির ভেন্যু নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও নিউজিল্যান্ড দল জানিয়েছে, প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে অন্য কোথাও খেলতেও তাদের কোনো আপত্তি নেই।
ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক হামলার পর ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করে। এর ফলে বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ ও ম্যাচ আয়োজন নিয়ে নানা জল্পনা শুরু হয়। ইরান ফুটবল ফেডারেশন প্রাথমিকভাবে ফিফার কাছে তাদের ম্যাচগুলো যুক্তরাষ্ট্রের পরিবর্তে মেক্সিকোতে আয়োজনের প্রস্তাব তোলে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম জানায়, ফিফা এই প্রস্তাব বিবেচনা করছে না, যদিও সংস্থাটি এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি।
ইরান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহদি তাজ স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, “আমরা আমেরিকাকে বয়কট করব, কিন্তু বিশ্বকাপকে নয়।” অর্থাৎ ইরান বিশ্বকাপে অংশ নিতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, তবে যুক্তরাষ্ট্রে ম্যাচ খেলতে অনাগ্রহী। এদিকে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রে খেলতে এলে ইরানি খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা থাকতে পারে। যদিও পরে তিনি এ বিষয়ে আশ্বস্ত করেন যে কোনো সরকারি হুমকি নেই। তবুও এই মন্তব্যকে ভিত্তি করে ইরান ভেন্যু পরিবর্তনের দাবি জোরালো করে।
অন্যদিকে মাঠের প্রস্তুতিতে কোনো ঘাটতি রাখছে না ইরান। তুরস্কে তাদের অনুশীলন ক্যাম্প চলছে এবং সেখানে দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলার পরিকল্পনা রয়েছে। নিউজিল্যান্ডও তাদের প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছে, প্রাথমিক সূচি অনুযায়ী লস অ্যাঞ্জেলেসেই ম্যাচ হবে ধরে নিয়ে।
নিউজিল্যান্ডের মিডফিল্ডার রায়ান টমাস মনে করেন, ইরান যোগ্যতা অর্জন করেই বিশ্বকাপে এসেছে এবং তাদের সম্মান জানানো উচিত। তিনি বলেন, প্রয়োজনে মেক্সিকো বা কানাডায় গিয়েও খেলতে প্রস্তুত তারা। একইভাবে উইঙ্গার কোস্তা বারবারুসেসও জানিয়েছেন, ভেন্যু পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত কর্তৃপক্ষের, তবে এতে দলের প্রস্তুতিতে কোনো প্রভাব পড়বে না।
বিশ্বকাপটি শুরু হবে ১১ জুন এবং যৌথভাবে আয়োজন করছে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা। নিউজিল্যান্ড তাদের বেস ক্যাম্প স্থাপন করবে দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়েগোতে, যা মেক্সিকো সীমান্তের কাছাকাছি। মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শেনবাউম ইতোমধ্যে জানিয়েছেন, প্রয়োজনে তাদের দেশ ইরানের ম্যাচ আয়োজন করতে প্রস্তুত। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে ফিফাই।
| তারিখ | ম্যাচ | ভেন্যু |
|---|---|---|
| ১৫ জুন | নিউজিল্যান্ড বনাম ইরান | লস অ্যাঞ্জেলেস |
| ২১ জুন | ইরান বনাম বেলজিয়াম | লস অ্যাঞ্জেলেস |
| ২৬ জুন | ইরান বনাম মিসর | সিয়াটল |
নিউজিল্যান্ড-ইরান ম্যাচকে ঘিরে নিরাপত্তা উদ্বেগ থাকলেও বারবারুসেস বিশ্বাস করেন, আয়োজকরা খেলোয়াড় ও তাদের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। তিনি বলেন, বড় মঞ্চে পরিবারের উপস্থিতি খেলোয়াড়দের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস, এবং এমন সুযোগ হাতছাড়া করার কোনো কারণ নেই।
ফিফা জানিয়েছে, তারা ইরান ফুটবল ফেডারেশনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে এবং বর্তমান সূচি অনুযায়ী ম্যাচগুলো আয়োজনের প্রত্যাশা করছে। সব মিলিয়ে, মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি এই ম্যাচটি এখন বৈশ্বিক রাজনীতি ও কূটনৈতিক বাস্তবতার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে।