খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 27শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ১১ই মার্চ ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলার ফলে ইরানজুড়ে ব্যাপকভাবে বেসামরিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাথমিক জরিপ ও মূল্যায়নের ভিত্তিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রায় ২০ হাজারের বেশি বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
রেড ক্রিসেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ পর্যন্ত অন্তত ১৯,৭৩৪টি বেসামরিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলোর মধ্যে রয়েছে হাসপাতাল, স্কুল, ত্রাণ ও সহায়তা কেন্দ্রসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সেবা প্রতিষ্ঠান। সংস্থাটি আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যে, এই ধরণের ধ্বংসযজ্ঞ স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রা ও দৈনন্দিন কার্যক্রমে গভীর প্রভাব ফেলবে।
বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যে, ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের মধ্যে ৭৭টি হাসপাতাল এবং ৬৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এছাড়া রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি নিজস্ব ১৬টি পরিচালিত কেন্দ্রও হামলার ফলে গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সংস্থাটি ইতিমধ্যেই ত্রাণ ও পুনঃনির্মাণ কার্যক্রম শুরু করেছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার জরুরি সহায়তা পৌঁছে দিতে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করেছে।
| ধরণ | ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনার সংখ্যা |
|---|---|
| মোট বেসামরিক ভবন | 19,734 |
| হাসপাতাল | 77 |
| স্কুল | 65 |
| রেড ক্রিসেন্ট পরিচালিত কেন্দ্র | 16 |
| ত্রাণ ও সহায়তা কেন্দ্র | অজানা (আনুমানিক অন্তর্ভুক্ত) |
রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি আরও জানিয়েছে, হামলার ফলে শুধু ভবন নয়, স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সেবায় বিরূপ প্রভাব পড়েছে। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের জন্য এই ধরণের অবকাঠামোগত ক্ষতি দীর্ঘমেয়াদি মানবিক সংকট তৈরি করতে পারে।
সংস্থার এক কর্মকর্তা বলেন, “এই হামলা শুধু স্থাপনার ক্ষতি করছে না, এটি আমাদের জনগণের জীবনযাত্রা ও মৌলিক সেবার উপরও প্রভাব ফেলছে। আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সাহায্যের জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।”
হামলার পর রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জরুরি পুনর্বাসন কার্যক্রম শুরু করেছে, যেখানে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারদের খাদ্য, চিকিৎসা ও সাময়িক আশ্রয় প্রদান করা হচ্ছে। সংস্থাটি আশা প্রকাশ করেছে যে, স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সমর্থন বৃদ্ধির মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত জনসংখ্যার পুনর্বাসন দ্রুততর করা সম্ভব হবে।