খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৪ জুলাই ২০২৫
ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষার ইতিহাসে এক যুগের অবসান ঘটতে যাচ্ছে। ১৯৬৩ সালে ভারতীয় বিমানবাহিনীতে যুক্ত হওয়া প্রথম সুপারসনিক যুদ্ধবিমান মিগ-২১ অবশেষে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে অবসরে পাঠানো হচ্ছে। তবে শুধুই ভারত নয়—বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসেও রয়েছে এই যুদ্ধবিমানের গৌরবময় অবদান।
সোভিয়েত ইউনিয়নের তৈরি এক ইঞ্জিনবিশিষ্ট মিগ-২১ প্রথম ভারতীয় বিমানবাহিনীতে যুক্ত হয় ১৯৬৩ সালে। পরে ভারতের হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড এর মাধ্যমে দেশীয়ভাবে বিমানটির উৎপাদন ও আধুনিকায়ন চালু হয়।
তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই যুদ্ধবিমান হয়ে ওঠে ঝুঁকিপূর্ণ। জটিল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং আধুনিক সুরক্ষা প্রযুক্তির অভাব একে পরিচিত করে তোলে ‘ফ্লাইং কফিন’ নামে।
বর্তমানে রাজস্থানের নাল ঘাঁটিতে মাত্র দুটি মিগ-২১ বাইসন স্কোয়াড্রন সচল রয়েছে। সেখানে মোট ৩৬টি বিমানই সেপ্টেম্বরের মধ্যেই অবসরে যাচ্ছে।
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে ভারতের সামরিক সহায়তায় মিগ-২১ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ১৪ ডিসেম্বর, ঢাকার গভর্নর হাউস লক্ষ্য করে ভারতীয় বিমানবাহিনীর চারটি মিগ-২১ বিমান একযোগে ১২৮টি রকেট নিক্ষেপ করে। এই অভিযানের নেতৃত্বে ছিলেন এয়ার ভাইস মার্শাল ভূপেন্দ্র কুমার বিষ্ণোই।
তার ভাষায়, “এই আক্রমণের পরই পূর্ব পাকিস্তানে বেসামরিক সরকারের শিরদাঁড়া ভেঙে পড়ে।” আর মাত্র দুই দিন পর, ১৬ ডিসেম্বর, পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে জন্ম নেয় স্বাধীন বাংলাদেশ।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, মিগ-২১-এর সক্রিয় ব্যবহার মুক্তিযুদ্ধে কৌশলগত ভারসাম্যে বড় রকমের পরিবর্তন আনে এবং পাকিস্তানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যর্থ হয়ে পড়ে।
বর্তমানে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী ব্যবহার করছে মিগ-২১ এর চীনা সংস্করণ এফ-৭ বিজিআই। সম্প্রতি এই মডেলের একটি যুদ্ধবিমান ঢাকার মাইলস্টোন স্কুলের ওপর বিধ্বস্ত হয়, যা আবার আলোচনায় নিয়ে আসে এই যুদ্ধযানের ইতিহাস ও বর্তমান ঝুঁকি।
স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে, ২০২১ সালে, ভারতের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ বাংলাদেশের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে একটি মিগ-২১ এর প্রতিমূর্তি উপহার দেন। এটি ছিল মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অংশগ্রহণ ও মিগ-২১-এর ঐতিহাসিক অবদানের প্রতীক।
মিগ-২১ এখন অবসরের দ্বারপ্রান্তে। কিন্তু ইতিহাসের পাতায় তার অবদান অমলিন। বিশেষ করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে এর সাহসী উড্ডয়ন চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
খবরওয়ালা/এমএজেড