খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
রংপুর জেলার সদর উপজেলায় র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-১৩) এর একটি বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ মাদকসহ দুই পেশাদার মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল, ২০২৬) সকালে র্যাব-১৩ এর সদর দপ্তর থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত মাদকের বাজারমূল্য আনুমানিক সাড়ে ১৩ লাখ টাকা বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
র্যাব সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রংপুর সদর উপজেলার চন্দনপাট ইউনিয়নের সাহাবাজপুর লাহিড়ীরহাট বাজার এলাকায় এক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান চলাকালীন রংপুর-বদরগঞ্জগামী পাকা সড়কের ওপর দুই ব্যক্তির গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে র্যাব সদস্যরা তাদের আটক করেন। পরবর্তীতে উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে তাদের দেহ ও সাথে থাকা ব্যাগ তল্লাশি করে মোট ৬,৮০০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় মাদক সরবরাহ করে আসছিলেন বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। তাদের বিস্তারিত পরিচয় নিচে দেওয়া হলো:
| ক্রমিক | নাম ও বয়স | পিতার নাম | স্থায়ী ঠিকানা |
| ০১ | পারভেজ হোসেন (৩৩) | বাবলু হোসেন | নতুন বাজার, পার্বতীপুর, দিনাজপুর |
| ০২ | মো. আসিফ (৩৬) | জয়নাল শেখ | নতুন বাজার, পার্বতীপুর, দিনাজপুর |
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, ট্যাপেন্টাডল মূলত একটি শক্তিশালী ওপিওড ব্যথানাশক ওষুধ, যা মাঝারি থেকে তীব্র ব্যথার চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। তবে এর উচ্চ আসক্তি তৈরির ক্ষমতার কারণে মাদকসেবীরা এটিকে হেরোইন বা ইয়াবার বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করছে। বাংলাদেশ সরকার ২০২০ সালে ট্যাপেন্টাডলকে ‘মাদকদ্রব্য’ হিসেবে ঘোষণা করে এর উৎপাদন ও বিক্রি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করেছে। তা সত্ত্বেও চোরাই পথে বা ভুল প্রেসক্রিপশন ব্যবহার করে এই ট্যাবলেটের অবৈধ পাচার বৃদ্ধি পেয়েছে। এই মাদক বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি স্বরূপ।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্যমতে, লাহিড়ীরহাট বাজার এলাকাটি ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে মাদক কারবারিদের জন্য একটি ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। র্যাবের এই সময়োপযোগী অভিযানকে তারা স্বাগত জানিয়েছেন।
রংপুর র্যাব-১৩ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) বিপ্লব কুমার গোস্বামী জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা স্বীকার করেছেন যে তারা একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্য। তারা দেশের সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকা থেকে এই মাদক সংগ্রহ করে রংপুরসহ পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে সরবরাহ করতেন। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত মূল হোতা ও অন্যান্য সদস্যদের আইনের আওতায় আনতে র্যাবের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।