খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর ২০২৫
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সোমবার দিনভর ককটেল বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের একাধিক ঘটনা ঘটেছে। আগারগাঁও, মেরুল বাড্ডা, শাহজাদপুর, মোহাম্মদপুর, ধানমণ্ডি ও মিরপুরে এসব ঘটনা ঘটে। পুলিশ বলছে, ঘটনার পেছনে নাশকতার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানায়, রাত ৯টার পর আগারগাঁওয়ের বেতার ভবনের সামনে পরপর দুটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। পরে পুলিশ একটি অবিস্ফোরিত ককটেল উদ্ধার করে। একই সময় মেরুল বাড্ডায় আকাশ পরিবহনের একটি বাসে এবং শাহজাদপুরে ভিক্টর পরিবহনের আরেকটি বাসে আগুন দেওয়া হয়। দুইটি বাসই পুরোপুরি পুড়ে যায়।
ধানমণ্ডির ল্যাবএইড হাসপাতালের সামনে সন্ধ্যায় আরেকটি বাসে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিস জানায়, খবর পেয়ে দুটি ইউনিট গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
এর আগে ভোর ৪টার দিকে মিরপুরে গ্রামীণ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। এছাড়া মোহাম্মদপুরের স্যার সৈয়দ রোডে উপদেষ্টা ফরিদা আখতারের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ‘প্রবর্তনা’-এর সামনে দুটি ককটেল নিক্ষেপ করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, মোটরসাইকেলে করে আসা দুই ব্যক্তি এ কাজটি করে পালিয়ে যায়।
সন্ধ্যায় মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরের পাশে শাহ আলী মার্কেট ও খিলগাঁও ফ্লাইওভারে আরও দুটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পুলিশ বলছে, ঘটনাগুলোর তদন্ত চলছে।
আগামী ১৩ নভেম্বর ‘ঢাকা লকডাউন’ কর্মসূচি এবং ১১ নভেম্বর জামায়াতে ইসলামীর আট দলীয় মহাসমাবেশকে ঘিরে রাজধানীতে নিরাপত্তা জোরদার করেছে পুলিশ। নাশকতা ঠেকাতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) আটটি বিভাগে ১৪২টি স্থানে বিশেষ নজরদারি স্থাপন করা হয়েছে।
ডিএমপি কমিশনার শেখ সাজ্জাত আলী বলেন, “রাজধানীর সব প্রবেশমুখে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। সন্দেহভাজনদের চলাচল নজরদারিতে রাখা হয়েছে। যেকোনো সহিংসতা মোকাবিলায় পুলিশ প্রস্তুত।”
রমনা বিভাগে ৩৪টি, মিরপুরে ১৪টি, ওয়ারীতে ১৬টি, মতিঝিলে ১৭টি, লালবাগে ১৫টি, উত্তরায় ১৬টি, গুলশানে ১৪টি ও তেজগাঁওয়ে ১৬টি পয়েন্টে বাড়তি নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, র্যাব, বিজিবি, সেনাবাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়ে কাজ চলছে। রাজধানীর হোটেল, মেস ও বিশ্ববিদ্যালয় হলগুলোতে বিশেষ গোয়েন্দা অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
ডিএমপির মিডিয়া শাখার উপকমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান জানান, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের ঝটিকা মিছিল ও নাশকতার পরিকল্পনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এখন পর্যন্ত তিন হাজারের বেশি ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায়ই ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ৩৪ জন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে।
অন্যদিকে খুলনার ফরাজিপাড়া এলাকা থেকে গত রবিবার রাতে ছাত্রলীগ নেতা দীপ পাণ্ডেকে গ্রেপ্তার করেছে নগর গোয়েন্দা পুলিশ। পুলিশ জানায়, তিনি ১৩ নভেম্বর নাশকতার পরিকল্পনায় নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীদের সংগঠিত করছিলেন। আদালতের মাধ্যমে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।